নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে উদযাপিত হয়েছে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। রবিবার দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি নানান আচারে শেষ হয়েছে। পালবার লিং সেন্টার ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মাঙ্গলিক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রবিবার কর্মসূচির মধ্য ভোরে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্রপাঠ, মহাসংঘধান, পিন্ডদান, বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, ধর্মীয় দেশনা, হাজার বাতি দান, কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও উৎসর্গসহ নানাবিধ দান উল্লেখযোগ্য। সন্ধ্যায় ফানুস উত্তোলন ও প্রদীপ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দানোৎসবকে ঘিরে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গল কামনায় এবং মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য ভিক্ষু সংঘের সমীপে নিবেদন করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা।
ধর্মীয় বনভান্তের অমৃতময় বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে পূণ্যার্থীদের মাঝে ধর্মদেশনায় প্রধান ধর্মদেশক প্রদান করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার যুগ্ম সম্পাদক ড. প্রিয়দর্শী মহাথেরো। আরো ধর্মদেশনা দেন, বিবেকারাম বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পুন্নানন্দ থেরো, পূর্ণাচন্দ্র বিহারের অধ্যক্ষ অনুরুদ্ধ থের, বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক দেববংশ থের, চান্দগাঁও আনন্দ বিহারের অধ্যক্ষ বোধিশ্রী থের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বিহারের অধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষু, সঞ্চালনা করেন রাউজান আর্যমৈত্র্যের মহাপরিনির্বাণ বিহারের অধ্যক্ষ দেবমিত্র থেরো। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পালবার লিং সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক অংচাখই মারমা(কার্বারি)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিলাইছড়ি জোনের উপ অধিনায়ক মেজর রাজু আহম্মেদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান, বিলাইছড়ি থানার ইনচার্জ পারভেজ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম।
আয়োজকরা জানায়, তিন মাস বর্ষাবাসের পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা কঠিন চীবর দান উৎসব পালন করে। এই উৎসবে পাহাড়িরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন তুলা থেকে চড়কার মাধ্যমে সুতা তৈরি করে ধর্মীয় গুরু বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধানের জন্য চীবর কাপড় বুনে দান করেন। কোনো ধরনের সেলাই ছাড়া তৈরিকৃত চীবর (কাপড়) ক্যায়াংয়ে (বৌদ্ধ বিহার) ভিক্ষুদের বিতরণ করা হয়।
সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বিহারের অধ্যক্ষ ও পালবার লিং সেন্টারের সভাপতি দেবতিষ্য ভিক্ষু বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধের মহা পূণ্যবতী নারী বিশাখা দেবী পূর্ণিমার এই তিথিতে এই কঠিন ব্রত পালন করে গৌতম বুদ্ধকে চীবর দান করেছিলেন। সেই থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন বিহারে ব্যাপক আয়োজনে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করে আসছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন।
