রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সড়কের ওপর থেকে পানি নেমে যাওয়ায় লামা-আলীকদমে সড়ক যোগাযোগ অনেকটাই স¦াভাবিক। লামা বাজার এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও এখনো পর্যন্ত নি¤œাঞ্চল গুলোতে কয়েকশ বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। লামা পৌর এলাকায় ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও লামা পৌর সভার পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ও খিঁচুড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। ভারী বর্ষরে ফলে পাহাড় ধসে লামা উপজেলার পৌরসভা ও রূপসিপাড়ায় ২০টি’র অধিক কাঁচা বাড়িঘর মাটি চাপা পড়েছে। আগে থেকে সর্তকতা অবলম্বন করায় পাহাড় ধসের ঘটনায় এবার প্রাণহানীর কোন ঘটনা ঘটেনি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নিয়েছে সকলকে যেন খিঁচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে। এ ছাড়াও তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন করার আশ্বাস দেন।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু জানান, ভারী বর্ষণের ফলে লামা পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার এবং খিচুড়ি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, অতি বর্ষণের ফলে লামা পৌর সভায় প্রায় ২ হাজার পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় আছে। তাদেরকে খিঁচুড়ি দেয়া হচ্ছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কবল থেকে পৌরবাসীকে রক্ষার জন্য তিনি মাতামুহুরী নদীর গতি পরিবর্তন এবং ড্রেজিং করার জোর দাবি জানান।
এদিকে আলীকদম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়েছে। বন্যা কবলিত লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো অস্বাবাবিক।
