বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন বটতলী দরবার শরীফের উদ্যোগে, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বাঘাইছড়ি শাখার সহযোগিতায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ র্যালিটি বটতলী দরবার শরীফ হইতে রওয়ানা হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুহনী মুক্ত মঞ্চে এক আলোচনা সভায় মিলিত হন।
এতে বটতলী দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ আবদুন নুর(মা.জি.আ) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. জাফর আলী খাঁন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, সাবেক প্যানেল মেয়র হাজী আবদুশ শুক্কুর, হাজী মুহাম্মদ মাসুম, হাজী মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এসময় উপস্থিত থেকে কুরআন সুন্নাহের আলোকে বক্তব্য রাখেন কাচালং দাখিল মাদরাসার সিনিয়র আরবি মুদাররেছ মাওলানা মোজাম্মেল হক নুরী, সিঙ্গিনালা তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল ইসলাম আলকাদেরী, এফ ব্লক জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ সাইফুল ইসলাম আত্তারী, মডেল টাউন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ হোছাইন প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ খ্রি. ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে পবিত্র মক্কায় আরবের মরু প্রান্তরে মা আমেনার কোলে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুভ আগমন করেন। মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা। আজকের অশান্ত ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত মুখর বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষাকে অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। মহানবী (সাঃ) মানব জাতির জন্য এক উজ্জ্বল অনুসরণীয় আদর্শ।
এসময় কালিমা খচিত বিভিন্ন রংবেরঙের পতাকা নিয়ে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে বটতলী দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পার্বত্য চট্টগ্রামের আধ্যত্মিক সুফি সাধক হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শাহসূফি সৈয়দ নুর মোহাম্মদ(রহ.) প্রকাশ মারিশ্যা বড় হুজুর কেবলা(রহ.)’র মাজার শরীফে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মুক্তি কামনা করে মিলাদ-কিয়াম আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।
