সাইফুল হাসান ॥
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের করেঙ্গাতলী বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এক কলেজ ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের পর ঐ ইউনিয়েন সভাপতি যীশু চৌধুরী (২৭) ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সোহেল(২৬) কে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সানি দেব ও যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম’র স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয় দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১৭ এর (খ) দ্বারা মোতাবেক ছাত্রলীগ থেকে এদেরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে কিশোর ধর’কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মো. জনি খানকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সানি দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাটি জানান পরে তাদেরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তাদের এমন কর্মকান্ড আমাদের ছাত্রলীগের সম্মান ক্ষুণœ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে যা সহযোগিতা করার প্রয়োজন হবে আমরা করবো। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান এ ছাত্রলীগ নেতা।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে ধর্ষণের ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা থানায় এসে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এতে বলা হয় ‘ভুক্তভোগী ছাত্রী কাচালং সরকারি কলেজ থেকে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে গত ১৫ জুলাই রাত অনুমানিক ৮ টার দিকে বিপ্লব বড়–য়া মেয়েকে জরুরি আলাপ আছে বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটি রাত্রে বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন আশেপাশে খোঁজাখুজি করেন। পরদিন ১৬ জুলাই ভোর বেলায় মেয়েটি বাড়িতে আসিয়া জানায় যে, বিপ্লব বড়–য়া তাকে বাড়ির বাহিরে ডেকে নেওয়ার পর বিবাদীগণ তাহার মুখ চাপিয়া ধরিয়া জোর পূর্বক বড়ুয়া পাড়ায় বসতঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সারা রাত মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এতে।’ এ ঘটনার দুই ছাত্রলীগ নেতা সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ধর্ষণে অভিযুক্ত বাকী তিন আসামিরা হলেন একই এলাকার মো. আরিফ(২৬), মো. রাসেল(২৯), অমল বড়ুয়া (৪৫)।
