নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে খুব প্রয়োজন ছাড়া লোকজনদের ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশ ফেরত লোকজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব ধরনের গণ জমায়েতও নিষেধ করা হয়েছে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে; সেজন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
তারপরেও জীবন জীবিকার তাগিদে লোকজন ঘরের বাইরে বের হয়; প্রয়োজনীয় কাজ সেরেই ফিরে যাচ্ছেন ঘরে। দেশের এমন পরিস্থিতিতেও থেমে নেই ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিস্তি আদায়। শহরের অলি-গলিতে সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিনই সকাল থেকেই আনাগোনা দেখা যায় এসব এনজিও কর্মীদের।
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ইউছুফ সওদাগর জানায়, ব্যবসার জন্য আমি ঋণ নিয়েছি; প্রতিদিন কিস্তি শোধ করতে হচ্ছে প্রায় বারোশত টাকা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে লোকজন তেমন একটা বাজারে আসছেন না। ফলে বেচা বিক্রি আগের চেয়ে কম। কিন্তু প্রতিদিন যে বারোশত টাকা কিস্তি শোধ করতেই হয়। বর্তমান অবস্থা খুবই করুন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
একই অবস্থা শহরের আসামবস্তির ফাতেমা বেগমের। একটি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ট্যুরিস্ট বোট বানিয়েছেন দুই মাস আগে। কিন্তু বর্তমানে ভাড়া একেবারেই কমে গেছে। ফাতেমা বেগম জানায়, পর্যটক আসলে বোট ভাড়া হতো এবং সংসারের খরচ চালিয়ে প্রতি সপ্তাহে সাড়ে সাতশত টাকা কিস্তি শোধ করতে পারতাম। কিন্তু এখনতো পর্যটক আসছে না। তাই বোট ভাড়াও হচ্ছেনা। কিন্তু সাপ্তাহিক কিস্তি ঠিকই চালাতে হচ্ছে। কতদিন চালাতে পারব তাও বুঝতে পারছিনা। কিস্তির টাকা না পেলে তারা ঘর থেকেও বের হয়না।
শহরের বনরূপাস্থ কাপড় ব্যবসায়ী হারুন জানায়, দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। সামনে বিজু এবং রোজার ঈদ। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে বেচাবিক্রি একেবারে কমে গেছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় সাত হাজার টাকার মত কিস্তি শোধ করতে হয়। বর্তমানে বেচাবিক্রির যে হাল সামনে কিস্তি চালানো সম্ভব হবে বলেও মনে হচ্ছেনা। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কিস্তি যদি বন্ধ রাখে তবে আমাদের অন্তত টিকে থাকাটা সহজ হবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন এনজিও কর্মীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, এখনো পর্যন্ত অফিস থেকে কিস্তি আদায় বন্ধে কোনো ধরনের নোটিশ আমাদের দেয়নি।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিয়ে এনজিও পরিচালকদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন।
