প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দু’বার উচ্ছেদের পর ফের একইস্থানে দখল করে দোকানপাট ঘরে উঠেছে পর্যটন শহর রাঙামাটির ফরেস্ট রোডটি। এর আগে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন দুইবার সরকারি জায়গায় এসব টং দোকানপাট গড়ে উচ্ছেদ করেছে। এই রাস্তায় কেবল বনবিভাগের চলাচলের জন্য নয়, প্রতিনিয়ত এই রাস্তায় দিয়েই হাটা চলা চলা করে ট্রাইবেল আদামসহ অত্র এলাকার লোকজন।
গত শনিবার বিকালে ‘সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের’ যোগসাজশে এসব দোকানপাট তুলেছেন বলে জানিয়েছে দখলে নেয়া দোকানিরা। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ‘যুবলীগ নেতাদের’ মদদে তারা এ জায়গা অবৈধভাবে বেদখল করলেও তাদের নাম প্রকাশ্যে বলছেন না তারা। তারা বলেন, ‘এককালীন টাকা’ জমা দিয়ে তারা দোকান নিয়েছে। এর আগেও তারা একইস্থানে দোকান করেছে।
এ ঘটনায় পরদিন রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। তারা অবিলম্বে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে বেদখল করে গড়ে উঠা দোকানপাট গুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বোরবার সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একদিনের মাথায় এ স্থানে ১৫-১৬টি টং দোকান তৈরি করা হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। নাম প্রকাশে অইচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘ভাই আমরা তো এমনিতে এই জায়গায় দোকান তুলতে পারেনি। এখানকার ‘যুবলীগ নেতারা’ এসব দোকান করতে আমাদের সাহায্য করেছেন। এর বিনিময়ে তাদেরকে আমাদের কিছুই টাকাও দিতে হয়েছে।’
আইনশৃ্খংলা সভায় এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা। তিনি সভায় বলেন, পরপর দুইবার একই জায়গায় উচ্ছেদের পর আবারো সে স্থানে দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ব্যক্তি মালিকানা কিংবা সরকারি জায়গায় হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এই সাংবাদিক।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি পর্যটন শহর। এর আগেই একইস্থানে দোকানপাট গড়ে উঠায় সেগুলো জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করে। কিন্তু আবারও এখানে দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এতে করে কেবল জনভোগান্তি নয়; পর্যটন শহরের সৌন্দর্য্য, কবরস্থানের পবিত্রতা ও যানবাহন চলাচলেও বিঘœ ঘটবে। এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ জনস্বার্থ ও আইনশৃংখলা পরিপন্থী।’
এ সভায় পৌর কাউন্সিলর কালানয় চাকমা বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তা মেরামতের সময় এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু কারা এবার আবারো এ জায়গায় বেদখলে নিয়েছে সেটা আমি জানি না।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটি বন বিভাগের নয়। তাই বিষয়টি নজরে থাকলেও এ নিয়ে তাদের করার কিছুই নেই।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অবৈধ দখলে আগে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়ে ছিল। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে পুনরায় জানানো হয়েছে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কর্মস্থলে আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাঙামাটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন বলেন, এর আগে বনবিভাগের দেওয়াল নির্মাণের সময় জেলা প্রশাসন এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে। পরবর্তীতে আবার সেখানে অবৈধ দখল করা হলেও জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করে। কিন্তু গত শনিবার আবারো সেখানে অবৈধভাবে দোকানপাট তোলা হয়েছে।
এক প্রশ্নে এই জনপ্রতিনিধি জানান, আপনারা সেখানে গিয়ে জানতে পারবেন, কাদের যোগসাজশে কারা এসব দোকানপাট গড়ে তুলেছে। আমরা তো কাউন্সিলর; বুঝেনই তো।
