রেড ক্রিসেন্টের আর্থিক সহায়তায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠা পরিবারগুলোকে দেখতে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নাধীন মিতিঙ্গাছড়ি স্কিম এলাকা পরিদর্শন করেন রেড ক্রিসেন্ট সিডি বিভাগ,ঢাকার পরিচালক এম এ হালিম। গত সোমবার সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালীন তিনি উপকারভোগী পরিবারগুলোর সাথে মতবিনিময়, তাদের ক্রয়কৃত পশু, ক্ষেত- খামার, দোকানপাট ঘুরে ঘুরে দেখেন। তার সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, পোকাল পার্সন, ঢাকার পঙ্কজ কুমার সরকার, জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নুরুল করিম। এসময় রেড ক্রিসেন্ট উপজেলা যুব কমান্ডের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাসেম, প্রকল্প এলাকার সিডিসি সভাপতি মোঃ সেলিমসহ উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে উপকারভোগী ৭২টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপকারভোগী ঝর্না বেগম, মিনু বেগম, হ্লাচিউ মারমা, মোঃ ফরহাদ, আবু তাহের, ফুলো মং মারমা,পাইছি মং মারমা, ছানুচিং মারমা, রোকেয়া বেগম, মোঃ হারুনসহ স্বাবলম্বী হওয়া পরিবারগুলো রেড ক্রিসেন্টের আর্থিক সহায়তা নিয়ে হাঁস-মুরগী, গবাদি পশু পালন, দোকানে বিনিয়োগ, সেলাই মেশিন দিয়ে ও ভ্যান গাড়ি চালিয়ে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের গল্প শোনায়। এছাড়া উপকার ভোগীদের আরো কিছু সুবিধা-অসুবিধার বিষয় তুলে ধরেন তারা। উপকার ভোগীদের মুখে তাদের উন্নতির কথা শুনে এবং সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখে রেড ক্রিসেন্টের পরিচালক মুগ্ধ হয়ে উঠেন।
রেড ক্রিসেন্টের পরিচালক এম এ হালিম বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আত্ম-মানবতার সেবায় নিয়োজিত। সোসাইটি যা দেয়, তা নিঃস্বার্থ ভাবেই দিয়ে থাকে। রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া ৩০ হাজার টাকা আর ফেরৎ দিতে হবে না। ওই টাকা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলতে পারলেই তা হবে রেড ক্রিসেন্টের স্বার্থকতা।
জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক ফাহফুজুর রহমান বলেন, রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া টাকা দিয়ে আপনারা নিজেদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলুন। কিন্তু মূল টাকাটা ঠিক রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিট কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার হতদরিদ্র ৭২ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। গবাদি পশু পালন, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আত্ম- কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় বিগত ডিসেম্বর ২০১৭ সালে এসব হতদরিদ্রদের মাথা পিছু ৩০ হাজার টাকা করে ৭২ জনকে সর্বমোট ২১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই ২১ লাখ টাকায় কিনা সম্পদ বর্তমানে প্রায় ৪৪ লাখ টাকার সম্পদে উন্নীত হয়েছে।
