রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, আমাদের দেশ তথা এ ধরিত্রিকে বাঁচাতে হলে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। রাঙামাটিতে এবারের মেলা থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিক্রয় হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। এটা আমাদের জন্য সুখবর। শুধুমাত্র মেলা থেকেই এবছর রাঙামাটিতে সাড়ে আট হাজার চারা রোপন করা হলো। রাঙামাটির জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ, প্রত্যেকে একটি করে গাছের চারা লাগালে এবছরই সাড়ে ছয় লাখ চারা গাছ লাগানো হয়ে যাবে।
রোববার বিকেলে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাইনুদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটির উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও মেলায় অংশগ্রহণকারী নার্সারীর মালিকগণ।
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে খুব বেশি গাছ লাগানোর সুযোগ না থাকলেও পার্বত্য এলাকায় এখনও প্রচুর জায়গা পড়ে আছে। এসব জায়গা পতিত না রেখে গাছ লাগাতে হবে। বনভূমি সৃজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে। এখানে একটি পাহাড়ও যাতে ন্যাড়া পরে না থাকে, সে জন্য আমাদের সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। রাঙামাটির আয়তন প্রায় আট লক্ষ হেক্টর। যার মধ্যে ছয় লক্ষ হেক্টরই হচ্ছে বনভূমি। তবে এসব ভূমিতে গাছ আগের মতো নেই। আমরা প্রয়োজনে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গাছ কাটি। কিন্তু গাছ লাগাই না। যার ফলে আজ গাছের পরিমাণ কমে গেছে। তাই ওই সব পাহাড়ে বা বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগানো আমাদের দায়িত্ব হয়ে গেছে। এটাকে পাশ কাটিয়ে যাবার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। এসডিজির সতেরটি গোলের মধ্যে ১৩তম গোলটি হচ্ছে জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলা করা। আর এই প্র্রভাব মোকাবেলা করার একমাত্র ও সহজ উপায় হচ্ছে গাছ লাগানো। তাই আসুন আমরা সকলে গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই, নিজে বাঁচি সাথে দেশকে বাঁচাই। তাহলে এমনিতেই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে।’
আলোচনা সভা শেষে তিনি বৃক্ষ মেলায় অংশ নেয়া নার্সারী মালিকদের সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন। এবারের বৃক্ষ মেলায় সাজসজ্জা ও অধিক বিক্রয় করা নার্সারী মধ্যে প্রথম হয়েছে, মায়ের দোয়া নার্সারী, দ্বিতীয় হয়েছে লিমা নার্সারী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে আলম নার্সারী।
