‘পাহাড়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আর বরদাশত করা হবেনা’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেছেন সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। একই সময় তারা আঞ্চলিক দলগুলোকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস ছেড়ে দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার আহবান জানিয়েছেন। গত ১৮ আগষ্ট খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলাসহ সর্বশেষ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই আহবান জানানো হয়।
খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সভার আয়োজন করে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো: জাহাঙ্গির কবির তালুকদার, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পুলিশের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক, খাগড়াছড়ি বিজিবি‘র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল গাজী মোহাম্মদ সাজ্জাদ, জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান। এছাড়াও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙ্গালী বিশিষ্টজনরা অবৈধ অস্ত্র উদ্বার ও সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ অভিযানের দাবী করেন।
এসময় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পাহাড়ের চলমান অপতৎপরতা বন্ধে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, এমন নৈরাজ্যকর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে মেনে নেয়া হবেনা। সরকার যে কোন অপকর্ম বন্ধ করতে বদ্ধ পরিকর।
চট্টগ্রামের জিওসি জাহাঙ্গির কবির তালুকদার ও বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বরদাশত করবেনা। সরকারের প্রতিটি কর্মচারী ও আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করবেই। এ ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে সন্ত্রাসী ব্রাশফায়ারে ৬জন ও পৃথক ঘটনায় আরো ১জন নিহত হন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধের জের ধরে প্রায়ই খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে।
