শংকর হোড় ॥
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের কৃষি বিভাগের প্রতি আন্তরিকতার কারণে পাহাড়েও ফলের উৎপাদন বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তিনি কলেজ গেইট এলাকায় প্রতিদিনের ফলের বাজার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১০-২০ বছর আগেও কলেজ গেইটে এরকম চিত্র দেখা না গেলেও বর্তমানে দেখা যায় এই এলাকায় কি পরিমাণ মৌসুমী ফল বিক্রি হচ্ছে। এটা কৃষি বিভাগের অবদান। পাশাপাশি জেলা পরিষদও এই অবদানের শরিক। তিনি বলেন, বর্তমানে পাহাড়ে আম্রপালির ব্যাপক ফলন হচ্ছে। রাজশাহী থেকে আম্রপালি চারা এনে জেলা পরিষদ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে। প্রতি বছর জেলা পরিষদ কৃষি খাতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করছে। আর এর ফলস্বরূপ এখন পাহাড়ে কয়েকগুণ ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষি বিভাগে উদ্যোগে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে ফল মেলায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ফল মেলায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কৃষি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক(অব.) কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তপন কুমাল পাল।
স্বাগত বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল, সারাদেশে একযোগে আজ ফল মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাঙামাটিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের সমন্বয়ে ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ফল মেলার মাধ্যমে বিশে^র কাছে স্থানীয় ফলের পরিচিতি এবং এর বাণিজ্যিক চাহিদা সৃষ্টি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ে বর্তমানে ব্যাপকহারে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কাজু বাদাম, কফি চাষ হচ্ছে। একসময় রাঙামাটির কাজুবাদাম কিংবা হিল ট্র্যাক্টস কফি ব্র্যান্ড হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করবে। বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কীটনাশকমুক্ত আম হিসেবে পাহাড়ের আমের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচনা সভার পূর্বে অতিথিরা ফিতা কেটে ফল মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেন। ফল মেলায় অর্ধ শতাধিক জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।
