নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত রাঙামাটির নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সময়ে তিনি কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়কের উদ্বোধন করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নানিয়ারচরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণের ফলে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন আরও একধাপ এগোলো। এতে করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে ভূমিকা রাখবে।’ ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও কনফারেন্সে নানিয়ারচর প্রান্তথেকে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদুর রহমান, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমতাজ উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রাঙামাটি সওজের নিরবাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফিন, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা, ইউএনও শিউলি রহমান তিন্নীসহ সেনাবাহিনী-প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতের পদস্থ কর্মকর্তাগণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির দুর্গম তিন উপজেলার মানুষ চেঙ্গী নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলো ছয় দশক ধরে। তাদের সেই স্বপ্নের সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন বিকাশের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো বলে কর্মকর্তাদের বিশ্বাস। রাঙামাটি সদর-নানিয়ারচর-লংগদু-বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ১৯৯৩ সালে নানিয়ারচর অংশে চেঙ্গী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।
২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখানে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড অধীস্থ ২০ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) রাঙামাটির নানিয়ারচরে ‘চেঙ্গী সেতুটি’ নিমার্ণ কাজ শুরু। প্রায় বছরখানেক আগেই এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার ও প্রস্থ ১০ দশমিক ২ মিটার। এপ্রোচ সড়কসহ সেতুর নির্মাণ ব্যয় খরচ ২২৭ কোটি টাকা। তবে সেতুটির এখনো আনুষ্ঠানিক রাখা হয়নি।

এদিকে, সেতুটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় তারা খুশি। তবে এখনই এই সেতুর সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছে না লংগদু ও বাঘাইছড়ির মানুষ, কারণ নানিয়ারচর থেকে লংগদু উপজেলায় যাতায়াতের ১৮ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি সড়ক এখনও নির্মাণ হয়নি। সেটি নির্মাণ হলেই লংগদুর সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। নানিয়ারচরে ‘চেঙ্গী সেতু’ নির্মাণের ফলে স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন মান্নোয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
