পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জাতীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) প্রকল্প গ্রহন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহনের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পরে অনেক বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামে সাহায্য-সহায়তা দিয়েছেন, দিচ্ছে। জাতীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) তা বাস্তবায়ন করে আসছে। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট। তাই জেলা পরিষদের সঙ্গে প্রকল্প গ্রহন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহনের ক্ষেত্রে আগে থেকে বসার প্রয়োজন রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে (এনেক্স ভবন) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’- শীর্ষক প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বলেন। সভায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য চাথোয়াই প্রু মারমা, রাঙামাটির ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নীতিশ চাকমা।
এসময় বক্তৃতা করেন জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোসনে আরা বেগম, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বেগম সাহানওয়াজ, জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিশ^জীত চাকমা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান চিরণজিৎ তঞ্চঙ্গ্যা, উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা, গার্লস ক্লাবের সদস্য রূপালী চাকমাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু বলেন, আমাদের এলাকায় উন্নয়ন সংস্থাগুলো আমাদের জন্য কাজ করছে, তাই এ ব্যাপারে আমাদেরকে আরও আন্তরিক হতে হবে। চারবছর মেয়াদী কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সর্ম্পকিত এ প্রকল্পের অধীন রাঙামাটিতে যে চারটি এনজিও সংস্থা কাজ করছে; আমি চার সংস্থাকে নিয়ে একসঙ্গে আলোচনায় বসব। কিভাবে এই প্রকল্প আরও ফলপ্রসূ করা যায় জেলা পরিষদ সে চেষ্টাটাই করবে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পরিবার পরিকল্পনা ও মহিলা অধিদপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন চেয়ারম্যান।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য চাথোয়াই প্রু মারমা বলেন, ‘সমাজকে যতক্ষণ আমরা সচেতন করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা যাবে না। তাই আগে সমাজকে সচেতন করতে হবে। নারীদের পাশাপাশি এসব বিষয়ে পুরুষদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ একজন নারীর নিরাপত্তা পুরুষ কিংবা ছেলেদেরই দিতে হবে। তাই ছেলেদেরও সচেতনতা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ‘১৯৮৬ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী প্রগতি সংঘ কাজ করে আসছে। আমাদের এখানে কোন অফিস না থাকলেও স্থানীয় সহযোগি সংস্থার মাধ্যমে আমরা এখানে কার্যক্রম বাস্তকবায়ন করছি।’
স্থানীয় এনজিও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে সিমাভি ও নারী প্রগতি সংঘের সহযোগিতায় তিন পার্বত্য জেলার ১৭টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাঙামাটির চার উন্নয়ন সংস্থা গ্রোগ্রেসিভ, উইভ, টংগ্যা ও হিল ফ্লাওয়ার জেলার আট উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চারবছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ হলো গার্লস ক্লাবের মাধ্যমে কিশোরী-নারীদের জীবন মানোন্নয়ন, যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাসহ বৈষম্য, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা।
