হ্রদ, পাহাড় ও ঝর্নার দেশ রাঙামাটি। দেশের আর কোথাও হ্রদ পাহাড় ও ঝর্নার এমন মিতালি দেখা যায় না। তাই যে কোন লম্বা ছুটিতে প্রকৃতি প্রেমী মানুষ ছুটে আসে রাঙামাটিতে। যান্ত্রিক জীবনের এক ঘেঁয়েমি ঘুচাতে এবং প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটিয়ে নিজেকে সতেজ করে তোলে। কিন্তু রাঙামাটি এখনো পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে সম্প্রতি ঈদুল আযহার ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। তাদের মতে রাঙামাটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য এখানে সরকারি বেসরকারি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
‘প্রকৃতি এখানে দু’হাত উজাড় করে তার সৌন্দর্য্য দান করেছে। কিন্তু এই সম্পদ আমরা যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি। প্রকৃতির সাথে কিছুটা অবকাঠামোগত উন্নয়ন যুক্ত করতে পারলে শুধু এমন লম্বা বন্ধেই নয় সারা বছর এখানে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড় লেগে থাকবে এমনটাই বললেন খুলনা থেকে বেড়াতে আসা মোঃ রাইসুল ইসলাম। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী, চিংড়ি ঘের আছে ২৫টি, ঘুরে বেড়ানো তার একটা নেশা বলেও তার দাবি। পৃথিবীর বিখ্যাত অনেক স্থানে তিনি গিয়েছেন, তবে তার চোখে রাঙামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশের মত এত সুন্দর আর কোথাও চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন রাইসুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকার তথা পর্যটন মন্ত্রণালয় একটু নজর দিলে এই এলাকার দৃশ্যপট পুরো বদলে যাবে। পাশাপাশি এখানকার মানুষ যদি আন্তরিক হয়ে পর্যটন ব্যবসায় মনোনিবেশ করে তাহলে এ জেলা হবে বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।
বগুড়া থেকে বেড়াতে এসেছিলেন শফিকুল ইসলাম, তিনি সরাসরি সাজেক চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত পর্যটক থাকায় রাত্রি যাপনের জন্য কোন হোটেল না পেয়ে মাইক্রোতে রাত কাটিয়ে দুপুর নাগাদ রাঙামাটি এসে পৌঁছান। তিনি বলেন, এসেছিলাম পরিবার পরিজন নিয়ে প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন কাটাবো, কিন্তু সে সুযোগ পেলাম না। সাজেকে গাড়িতে রাত কাটিয়ে রাঙামাটি এলাম, কিন্তু এখানেও কোন আবাসিক হোটেলে সিট পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে কক্সবাজার চলে যেতে হচ্ছে। তবে এসেই যখন পড়েছি রাত কাটাতে না পারলেও বাচ্চাদের ঝুলন্ত সেতু দেখিয়ে নিয়ে গেলাম। সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে এমন আক্ষেপের কথাই জানালেন শফিকুল ইসলাম। তার মতে রাঙামাটিই প্রাকৃতিকভাবেই অনেক সুন্দর, আমাদের দেশে এমন সুন্দর জায়গা আছে না দেখলে তা বলে বোঝানো যাব না। শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই বিকশিত হচ্ছে না, ফলে আর্থিক সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার মানুষ।
সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছিলেন ১৫ তরুণের একটি দল। অনেক কষ্টে শহরে রাজু হোটেলে আবাসনের বাবস্থা করেছিলেন তারা। তবে হোটেলের পরিবেশ তাদের মোটেও পছন্দ হয়নি অভিযোগ তাদের।
ঈদ উপলক্ষে শহরের অধিকাংশ খাবার হোটেল বন্ধ ছিল, টাকা দিয়ে খাবার কিনে খেতেও যেন অনেকটা যুদ্ধ করতে হয়েছে। পাঁচটি হোটেল ঘুরে একবেলায় খাবার খেতে হয়েছে। একটি পর্যটন শহরে এসে এমন বিপাকে পড়তে হবে কল্পনাও করতে পারিনি। এমটাই বলছিলেন তরুণ দলের সদস্য পলাশ মাহমুদ। দলের অপর সদস্য সাজ্জাদ হোসেনর মতে এখানে দেখার আছে অনেক কিছুই আছে যেমন সুবলং ঝর্ণা, বা ঝর্ণায় যাবার পথের দৃশ্য দেখেতো ভাবতে অবাক লাগে এটা আমাদের বাংলাদেশ, পাহাড় হ্রদ আর আকাশ যেন এখানে মিতালি করেছে। এমন জায়গায় একবার এসে মন ভরেনি, আবার আসতে হবে, ঘুরতে হবে অদেখা স্থানগুলো। তবে প্রকৃতিও যা দিয়েছে, তারও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এমনটাই জানালেন সাজ্জাদ।
