পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈসাবি (বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-সাংক্রান) উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশবাসীকে বৈসাবি ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাহাড়ে পূর্ণশায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসিত খীসা। বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ইউপিডিএফ সভাপতি এ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বার্তায় ইউপিডিএফ সভাপতি পাহাড়িদের মধ্যকার ‘পথভ্রষ্ট’ অংশটিকে আত্মঘাতি পথ পরিহারপূর্বক সর্বনাশা ‘খপ্পড়’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান। এতে তিনি নতুন বছরের আগমনে জাতীয় জীবনে শুভ সূচনা ঘটাতে সকলকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বানও জানিয়েছেন।
ইউপিডিএফ প্রধান বলেন, ‘এক কালের নৈসর্গপুরী পার্বত্য চট্টগ্রামে চৈত্রের শেষ লগ্নে উৎসবের যে ধুম পড়ে যেত, তার বিপরীতে বর্তমান সময়ে অনুভূত হচ্ছে ক্ষোভ, বিষাদ, চাপা আতঙ্ক।’ তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বাস্তবিক অর্থে পাহাড়ে আনন্দ উৎসবের কোনো পরিবেশ নেই, মানুষের সে মন-মানসিকতাও নেই। তাই প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করতে সরকারি উদ্যোগে র্যালি-মেলা-কনসার্ট ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এ ধরনের কৃত্রিম উৎসবমুখর অনুষ্ঠান সরকারি উদ্যোগে ফলাও করে প্রচার করা হয়।’
গণমাধ্যমে পাঠানো এ বার্তায় ইউপিডিএফ নেতা বছরের বিশেষ দিনে সাধারণ মানুষের শান্তি ও স্বস্তি কামনা করেন। একই সাথে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলার কারণে কারাগারে অন্তরীণ, ঘরবাড়ি-এলাকাছাড়া নেতা-কর্মী-শুভাকাক্সক্ষীসহ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে ও বিদেশে অবস্থান করছেন, উৎসব লগ্নে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।
বৈসাবি শুভেচ্ছা বার্তায় ইউপিডিএফ নেতা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ‘ভূমি জরিপ ও জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন’ সুপারিশ বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘জোর জবরদস্তি, গ্রেফতার, খুন-খারাবি, হাজার রকমের অনিয়ম ও ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরিয়ে ফেলার এক আজব নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশে আক্ষরিক অর্থে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে ফেলেছে। এ সরকার ও আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনের অধীনে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট একাদশ সংসদ নির্বাচন এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ মানুষের নিকট এ অনিয়মের নির্বাচন স্পষ্ট। কাজেই একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকারই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।’ (বিজ্ঞপ্তি)
