দ্বিধা,ভয় কিংবা শংকাকে পেছনে ফেলে নির্বাচনের মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই নৌকার পালে যেনো অদ্ভুদ হাওয়া লেগেছে। জেলার শীর্ষ নেতা থেকে দূর গ্রামের কর্মী,সবাই হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। যেকোন মূল্যে দাদা দীপংকর তালুকদারকে বিজয়ী করতেই হবে- এমন দৃঢ় প্রত্যয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের চোখে মুখে। বিজয়ের জন্য মরিয়া দলটির নেতাকর্মীরা চষে বেড়াচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকা কিংবা শহরের অলিগলি। একই এলাকায় অন্তত দশবার যাওয়ার ঘটনাও বড় বেশিই দৃশ্যমান সর্বত্র। হঠাৎ এই তৎপরতা নয়,মূলতঃ শেষ পাঁচ বছরে দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও রাঙামাটিতে বিজয়ী হতে না পারার যন্ত্রনা বয়ে বেড়ানোর দলটির নেতাকর্মীরা এবার তাই মরিয়া বিজয়ী হতে। বিজয়ী হওয়ার জন্য মাঠে তুমুল পরিশ্রমের পাশাপাশি কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় দলটির কর্মীরা।
বিজয়ী হওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ নির্ভর করছে বাঙালি অধ্যুষিত লংগদু,রাঙামাটি পৌর এলাকা,কাপ্তাই ও কাউখালির মারমা ভোটারদের দিকে, পাশাপাশি কাপ্তাই ও বিলাইছড়ির তংচঙ্গ্যা ভোটারদের পাশাপাশি নিজ দলীয় সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ি চাকমা ভোটারদের দিকেও আশায় বুক বেঁধে আছে। সবমিলিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা তারা এবার অন্তত ১ লক্ষ ৪০ হাজার ভোট পাবে এবং বিজয়ী হবেন। নিজেদের করা হিসেবে নিকেষে এই ভোটের দিকেই চোখ দলটির।
আত্মবিশ^াসী আওয়ামীলীগের জন্য এবার সবচে বড় আশীর্বাদ হিসেবে সামনে এসেছে দলটির পাহাড়ী নেতাকর্মীরা। গত দুইবছর ধরে আঞ্চলিক দলগুলোর চাপে তাপে বেকায়দায় পড়া এসব নেতাকর্মীরা ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তুমুল আত্মবিশ^াসে। বাঙালি সহকর্মীদের সাথে সমানতালে মাঠে প্রান্তরে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন তারাও। অব্যাহত হুমকি,চাপ আর মাথার উপর থাকা অস্ত্রের ভয়কে জয় করে এবার নৌকার বাক্সে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়েও বেশি ভোট আনার চেষ্টায় রাতদিন পরিশ্রম করছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উপজেলা কোটায় আসা সদস্যরা। সপ্তাহ দুয়েক আগেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন,দাদার মন জয় করতে বেশি বেশি ভোট এনে দিতে। সদস্যদের মধ্যে সবচে বেশি পরিশ্রম করছেন খোদ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। বাঘাইছড়ির প্রতিটি এলাকায় নিজে গিয়ে চেষ্টা করছেন ভোটারদের মন জয় করতে। নানাভাবে তিনি সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । প্রবীণ এই নেতার কার্যক্রমে উজ্জীবিত দলটির কর্মীরা। এর বাইরে কাউখালির অংশী মারমা,লংগদুর জানে আলম,বরকলের সবির চাকমা কঠোর পরিশ্রম করছেন। পিছিয়ে নেই কাপ্তাইয়ের থোয়াইচিং মারমা,সান্তনা চাকমা,জুড়াছড়ির জ্ঞানেন্দু চাকমা,বিলাইছড়ির রেমলিয়ানা পাংখোয়া,নানিয়ারচরের ত্রিদিব কান্তি দাশও। তুলনায় খুব বেশি কার্যক্রম চোখে পড়ছেনা স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা,অমিত চাকমা রাজু ও মনোয়ারা জসীম’র। এই তিন সদস্যের উপর নেতাকর্মীদেরও আছে ক্ষোভ। তবে স্মৃতি ও রাজু চেষ্টা করছেন শেষ মুহর্তের পরিশ্রমে নিজেদের ইমেজ বাঁচাতে,নৌকার ভোট বাড়াতে।
সহযোগি সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচে সক্রিয় ছিলো ছাত্রলীগ। বেশি চোখে পড়েছে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম। জেলা ছাত্রলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগগুলোকে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। নতুন ইউনিট হিসেবে অসাধারণ কার্যক্রম দেখা গিয়েছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের। কিন্তু সেই তুলনায় যুবলীগের কার্যক্রম তেমন একটা চোখে পড়েনি। সভাপতি-সম্পাদককে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে দেখা গেলেও সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত কোন কার্যক্রম ছিলোনা যুবলীগের।
মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগকেও। আওয়ামীলীগের সহযোগি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি মাঠে আওয়ামীলীগ সমর্থক পেশাজীবি সংগঠনগুলোকে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, আমাদের বিশ^াস নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ ভয়হীনভাবে শহর থেকে গ্রামে সবখানে ভোট দিতে পারবে। আর তাতেই বিজয়ী হবে নৌকা। আমাদের বিশ^াস আমরাই বিজয়ী হবো।’
বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ^াসী দীপংকর তালুকদারও। তিনি জানালেন, জনগণ আমাদের ভোট দিবে এবং
সবমিলিয়ে বেশ উচ্ছসিত আওয়ামীলীগ। উচ্ছসিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এখন প্রহর গুণছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ী হয়ে শেষ হাসি হাসতে।
