একটি গাছ দিয়ে পাড়ার প্রবেশপথ বন্ধ; বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না, খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পাড়ার কেউ বেরও হতে পারবে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যেখানে লোকজনকে ঘরে রাখতে হিমশিম অবস্থা, তখন প্রাচীন এই পদ্ধতিতে নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে রাঙামাটি শহরের বিজয় নগর ও গর্জনতলী এলাকায় নিজেদের উদ্যোগেই নিজেদের গ্রাম লকডাউন করে রেখেছে। পিছিয়ে থাকা এই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এমন উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন অনেকে।
করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার সামাজিক দূরত্বকে প্রাধান্য দিয়ে গত বুধবার থেকে দশ দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু এতো কিছুর পরও প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে দিন-রাত কাজ করছেন, সেখানে রাঙামাটি শহরের বিজয় নগর ও গর্জনতলী এলাকায়নিজেদের উদ্যোগেই নিজেদের গ্রাম লকডাউন করে দিয়েছে। এতে বাইরে থেকে কাউকে এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি নিজেরাও জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না। এতে সাধুবাদ জানিয়েছে সকল স্তরের মানুষ।
দুর্গম পাহাড়ে মহামারীর ছোবল নতুন কিছু নয়। ফলে যে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বাঁশ বা গাছ দিয়ে স্থানীয় পাড়াগুলোর এভাবে ‘সামাজিক লকডাউন’ করার চর্চাও চলে আসছে প্রাচীনকাল থেকে।
রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে এখনো পর্যন্ত কোনও করোনা রোগী পাওয়া না গেলেও এ পর্যন্ত প্রায় ১৫১ জন বিদেশফেরত মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪০জনকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বিজয় নগরের স্থায়ী বাসিন্দা সুপ্রিয় চাকমা ও রবিন চাকমা বলেন, মহামারী রোগটাকে ঠেকানোর জন্য আমরা আমাদের গ্রামাটাকে লকডাউন করে রেখেছি। এই সময় রাঙামাটির বাহিরে অবস্থানরতরা যদি কেউ আসে তাদের ১৪টি হোম কায়ারান্টিনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ এলাকার বাইরে যেতে পারবে না আবার কেউ আসতেও পারবেন না। এর কারন যাতে করে সক্রামণ রোগের আমাদের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে।
গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা সুমন ত্রিপুরা বলেন, সরকার কর্তৃক আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সেই অনুযায়ী আমাদের এলাকার লোকজনকে জরুরী কাজ ছাড়া কাউকে বের হতে দিচ্ছিনা এবং বহিরাগত কাউকে এলাকায় ডুকতেও দিচ্ছিনা। আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। বাড়ির আসে পাশে পরিস্কার রাখা, সাবান পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নিজেকে পরিস্কার রাখা এবং সাবাই যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করে।
রাঙামাটি বিজয় নগর, গ্রাম রক্ষা কমিটির, সমীরণ চাকমা বলেন, যখন এই নভেল ভাইসের প্রাদুভাব দেখা দিয়েছে তখন গ্রামের লোকজন নিয়ে আমাদের গ্রামটি আমরাই লকডাউন করে দিয়েছি। পাড়ায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে এবং দোকানগুলোতে সাবান পানি রাখা বাধ্যতামূলক করেছি। প্রতিদিন খোজ খবর রাখার চেষ্টা করছি কেউ অসুস্থ হচ্ছেন কিনা।
গর্জনতলীর বলাকা ক্লাবের সভাপতি ঝিনুক ত্রিপুরা, এলাকাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ। যদি প্রতিটি এলাকা তাদের নিজেদের উদ্যোগে কাজ করে তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের কাজের সুবিধা তৈরি হবে।
রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা বলেন, সরকারের এবং স্বাস্থ্য বিভাগের যে নির্দেশনা সেভাবে সবাইকে মেনে চলা উচিত। যেসব এলাকায় নিজ উদ্যোগে যেসব কাজ করছেন অবশ্যই কাজটি প্রশংসনীয়। এটি অনেকটা সরকারকে সহযোগিতা করার সমান।
