মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
মিয়ানরমার সীমান্ত উপজেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গত এক মাসে সাড়ে চার লাখেরও বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার আনুমানিক মুল্য ১৩ টাকারও বেশি। যা পূর্বের সব রেকর্ডকে ভঙ্গ করে ফেলেছে। পুলিশের ধারাবাহিক কৌশলী অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি আটক হচ্ছে ইয়াবা পাচারকারীরও।
ওসি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখায় বেশ সফলতা পেয়েছেন। সফলতা স্মারক হিসেবে তিনি অসংখ্যবার পেয়েছেন জেলার সেরা ওসির পুরস্কারও। প্রশাসনিক পুরস্কারের পাশাপাশি প্রশংসা কুড়াচ্ছে স্থানীয়দের কাছ থেকেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওসির প্রশংসায় মুখর রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ থেকে সাধারন মানুষও।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যে ১ হাজার ৯৫০ ইয়াবাসহ বশির আহমদ, ৩ আগস্ট ৯শ ৩০ ইয়াবাসহ রবিউল আলম, ১৩ আগস্ট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯শত ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা রহমত উল্লাহ, ১৫ আগস্ট ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা মূল্যের ৯শ ৪০ ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা জুবাইর, ১৬ আগস্ট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ হাজার ৫শ ইয়াবাসহ ছৈয়দ উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, আবুল কাশেম, রোহিঙ্গা ছাবের আহমদ, রোহিঙ্গা ইব্রাহিম খলিল, ২০ আগস্ট ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবাসহ সোনাইছড়ি যুবলীগ সভাপতি উছালা মার্মা পিন্টু এবং সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৩৫ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আনোয়ারকে আটক করে পুলিশ। সর্বসাকুল্যে গত এক মাসে ৩ লাখ ৫৭ হাজারও বেশি ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি। আটক ব্যক্তিদের মাঝে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সরকারী দলীয় লোকজনও রয়েছে। সবশেষ শুক্রবার সকালে উপজেলার ঘুমধুমে ৮৯ হাজার ৫শ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেট কার (চট্টমেট্টো-ঘ-১২-৪৭৬১) সহ আব্দুর রহিম (৫৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি কক্সবাজারের ইসলামপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদের ছেলে। উদ্ধার করা ইয়াবার মূল্য দুই কোটি টাকা।
সুত্র জানায়, পুরাতন রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা ইয়াবা, স্বর্ণ ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি হঠাৎ টাকা-পয়সার মালিক হওয়ার আশায় ইয়াবা পাচার ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার স্থানীয় লোকজন। অনেকেই রাজনৈতিক দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা পাচার। অনেকেই ইতিমধ্যে আটক হয়েছে পুলিশের হাতে।
তবে স্থানীয়রা ইয়াবার বড় বড় লাঘববোয়ালদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাড়াতে জোর দাবি জানিয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
