মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া ইউনিয়ন দোছড়ি যাওয়ার একমাত্র সড়কটি খালের পেটে বিলীন হতে চলেছে। ফলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে রামু উপজেলার কচ্চপিয়া ইউনিয়ন হয়ে দোছড়ি সীমান্তের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের কারণে এ সড়কের নারকেল বাগানস্থ দৌছড়ি খালের ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গণের কবলে পড়ে খালের দক্ষিণকুল এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকার বসতবাড়ি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত সংষ্কারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ওই এলাকার সমাজ সেবক রেজাউল করিম টিপু জানান, সড়কের ভাঙ্গনের জায়গাটি রামু উপজেলার হলেও নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধীনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নে সীমান্তরক্ষী বিজিবির ৬টি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। ওই ক্যাম্পে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। উক্ত সড়ক দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত আছেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র সদস্যরা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এ সড়ক দিয়ে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সীমান্ত সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে সীমান্ত সুরক্ষার নিয়োজিত বিজিবিসহ লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয় প্রবিণ মুরব্বি মাস্টার আহমদ আলী জানান, সড়কটি টেকসই উন্নয়ন না করায় প্রতি বছর পড়তে হয় ভাঙ্গনের কবলে। গত তিন বছর ধরে বর্ষা আসলেই এমন অবস্থা হয়। গেল বছর ৮৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংষ্কার কাজ করেন। কিন্তু বছর যেতে না যেতে আবারও নদীর পেটে চলে গেল। তাই তিনি এবার হলেও দীর্ঘ মিয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী টিপসই উন্নয়নের দাবি জানান।
গত মঙ্গলবার ভাঙ্গণ কবলিত জায়গা পরিদর্শন শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শফিউল্লাহ জানান, সড়কটি রামু উপজেলার হলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কের দৌছড়ি নারিকেল বাগানস্থ খালের ভাঙ্গণের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পাশর্^বর্তী এলাকার জনসাধারণ সহ উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভাঙ্গন এলাকা সহ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করবেন বলে আশা করেন তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল শাহ মোঃ আব্দুল আজিজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এলজিইডি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনিও দ্রুত নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
