লংগদু প্রতিনিধি
সরকার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন’ র্শীষক প্রকল্প গ্রহণ করে। রাঙামাটির বেশকিছু উপজেলায় ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও লংগদু উপজেলায় গত দেড় বছরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লংগদু উপজেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একটি নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে। বর্তমান কার্যালয়ের জমিটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বিকল্প জমি হিসেবে উপজেলার ভাইট্টাপাড়া এলাকায় হোসেনপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসা সংলগ্ন আট শতাংশ খাস জমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের জন্য বরাদ্ধ পায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। যা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গত ২ নভেম্বর ২০১৯ সালে বরাদ্ধ দেয়া হয়। জমি বরাদ্ধের পর থেকে আজ অবধি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কোনো প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে লংগদু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মীর শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক উপজেলায় এ ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও আমাদের উপজেলায় জমি বরাদ্ধ নিয়ে কিছুটা সময় পার হয়ে গেছে। বর্তমানে আর কোনো জটিলতা নাই। আশা করছি শিঘ্রই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
২০১৫ সালের ৯ জুন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের তিন তলা বিশিষ্ট প্রতিটি ভবনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যার ১ম তলায় থাকবে ১৪৫ বর্গফুটের ৯টি দোকান। ২য় তলায় কমিউনিটি সেন্টার আর ৩য় তলায় থাকবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ও কনফারেন্স হল। ভবনের বানিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ উপার্জিত অর্থ থেকে ভবনের রক্ষনাবেক্ষণ কাজে ব্যয় হবে ১০% ,উপজেলা কমান্ড এর দাপ্তরিক ব্যয় অর্থাৎ কর্মচারীদেও বেতনসহ ব্যয় কার হবে সর্বোচ্চ ৩০%, স্থানীয় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সাহায্য প্রদান খাতে ব্যয় হবে ১০%, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রচার প্রচারণা ও বিভিন্ন দিবস পালন বাবদ ১০% এবং ভবনের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য সঞ্চয় করতে হবে ৪০%।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের জন্য নির্ধারিত জমির নকশাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।
