শংকর হোড় ॥
হ্রদ ও পাহাড় ঘেরা সুবলং বাজারে অনুষ্ঠিত হল এক টাকার ভাসমান বাজার। শনিবার সকালে সুবলঙের লঞ্চঘাট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ওপর নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে রাখে। আর খেটে খাওয়া মানুষ যারা সাধারণত পাহাড়ে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল তারা নৌকা নিয়ে এসে এক টাকার বিনিময়ে কম্বল, লুঙ্গি, থামি, আটা, সুজিসহ ২০ রকমের পণ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি সংগ্রহ করতে পারছে। এই যেন শায়েস্তা খাঁ আমলের সময়কালকে স্মরণ করিয়ে দিল। যে সময়ে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। সুবলং বাজারে এক টাকার পণ্য কিনতে যেমন মানুষের ভিড়, তেমনি সস্তার এই বাজার দেখতে উৎসুক মানুষেরও অভাব ছিল না।
পাহাড়ের নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য রাঙামাটি রিজিয়ন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে এক টাকার বাজার সুবিধা নিয়ে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ে নি¤œ আয়ের মানুষও যাতে প্রয়োজনীয় পণ্যটি ক্রয় করতে পারে, তার জন্য এই আয়োজন। মাত্র এক টাকায় প্রয়োজনীয় বাজার ক্রয় করতে পেরে খুশি নি¤œ আয়ের ক্রেতারা।
জোনাকি ত্রিপুরা বলেন, মেম্বারের মাধ্যমে জানতে পারলাম এক টাকার বিনিময়ে প্রায় হাজার টাকার পণ্য দেয়া হচ্ছে। তাই এসব পণ্য কিনতে চলে আসলাম। এক টাকা দিয়ে অনেকগুলি পণ্য কিনতে পেরে ভালো লাগছে।
খলিল উদ্দিন বলেন, বিদ্যানন্দ ও সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের বাজার আরো বেশি আয়োজন করা প্রয়োজন।
ভাসমান বাজারে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেকুর রহমান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার মো. জামাল উদ্দিন, সুবলং ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমাসহ বাজারের নেতৃবৃন্দ।
সুবলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, আমার এলাকায় এই ধরনের একটি উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের ধন্যবাদ জানাই। প্রান্তিক এলাকার মানুষ যাতে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরো বেশি পেতে পারে সেজন্য সেনাবাহিনী ও বিদ্যানন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, জেলার দুর্গম সুবলংয়ে বাজার ছাড়াও বরকল, জুরাছড়ি, হরিণা ও বিলাইছড়িতে এক টাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রত্যেক ভাসমান হাটে ২০০ পরিবারকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের সুযোগ দেয়া হয়। প্রায় হাজার পরিবারকে এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
রিজিয়ন কমান্ডার এসময় বলেন, দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প টাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারে বিদ্যানন্দের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী এই কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করবে সেনাবাহিনী।