জিয়াউল জিয়া/সাইফুল হাসান
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের ঘোষিত কমিটিতে পদহারানো বিগত কমিটির কয়েক নেতা এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি ও সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বরের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিস্বার্থ’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজনীতি’র অভিযোগ এনে,কমিটিতে তাদের অন্তর্ভূক্তি করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে রাঙামাটির একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বাদ পড়া আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিগত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন,সাংগঠনিক সম্পাদক জমিরউদ্দিন,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ,স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা,জয়সেন তঞ্চঙ্গ্যা,জাকির হোসেন সেলিম,মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম,অমর কুমার দে,আজম চৌধুরী এইসব দাবি জানান। এদের সাথে উপস্থিত ছিলেন একসময়কার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আশুতোষ বড়ুয়াও।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুল মতিন। তিনি অভিযোগ করেন,সর্বশেষ জেলা কাউন্সিলে নিখিল কুমার চাকমার পক্ষে কাজ করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত রাখতে দীপংকর এবং মুছা ‘ব্যক্তিস্বার্থে’ ত্যাগি-পরীক্ষিত-প্রবীন ১৬ জন নেতাকে নতুন ঘোষিত ৭৫ সদস্যের কমিটিতে স্থান দেননি।
তিনি অভিযোগ করেন,কাউন্সিলে যে আশ্বাসের ভিত্তিতে নিখিল কুমার চাকমা নিজেকে সভাপতি পদ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন,সেই মোতাবেক দুইপক্ষই আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা। কিন্তু এই কমিটি গঠন করার সময় নিখিল-কামাল’র সাথে কোন আলোচনাই করা হয়নি।
তিনি ঘোষিত কমিটি সংশোধন বা রদবদল করে ত্যাগিদের সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাঙামাটি আওয়ামীলীগ এক ও অভিন্ন,আমাদের কোন গ্রুপিং নাই। কাউন্সিলে নিখিল সভাপতি হলে তার পক্ষে থাকতাম হয়ত,দীপংকর নির্বাচিত হওয়ায় আমরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় নতুন কমিটি থেকে আমরা বাদ পড়ে গেলাম !’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ দীপংকর তালুকদারের কোন বিকল্প নাই, এটা ঠিক নয়। তার বিকল্প অবশ্যই আছে।’ তিনি এই সময় ‘আওয়ামীলীগে গনতন্ত্র আছে’ বলেও মন্তব্য করেন।
বাদ পড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জমির উদ্দিন বলেন, সভাপতি-সেক্রেটারির সিন্ডিকেট রাজনীতির রোষানলে পড়েছি আমরা। আমি মনে করি আমাদের বাদ দেয়া হয়নি,বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা তাদের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার। দীপংকর-মুছার সিন্ডিকেট রাজনীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি আওয়ামীলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও,ঠিকমত সাংগঠনিক কাজকর্ম যথাযথভাবে করতে পারিনি। কারণ আমাকে দাবায়ে রাখা হত,নিজস্ব মতামতের গুরুত্ব ছিলোনা,শুধু দীপংকর তালুকদারের নির্দেশে চলতে হত। আমরা মনে করি, এভাবে চলতে দেয়া যায়না, এটা হতে পারেনা। ’
বাদ পড়া সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন-‘ কাউন্সিলে তিনি ( দীপংকর তালুকদার) ঘোষণা দিয়েছিলেন,অসুস্থ-মৃত ও অক্ষম ছাড়া কমিটিতে যারা আছেন,তাদের সবাইকে স্ব স্ব পদে বহাল রেখে কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা তাই বিশ্বাস রেখেছিলাম তার উপর,তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই।’
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বাদ পড়া ১৬ জন ও আশুতোষ বড়–য়ার নাম ও পদবী উল্লেখ করা হলেও তাতে সাক্ষর ছিলো ৯ জনের। বাকিরা নানা কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি এবং সাক্ষর করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলন করা আওয়ামীলীগ নেতারা। তবে একই গ্রুপের অনুসারি এবং ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি এই সংবাদ সম্মেলনে। আবার লিখিত বক্তব্যে নাম থাকলেও সাক্ষর না থাকা সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,বিদায়ী জেলা কমিটির বাদ পড়া সদস্য ও রাঙামাটি চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদকে এদিন(সোমবার) সকালে রাঙামাটি চেম্বারের দুস্থদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচীতে দীপংকর তালুকাদারের সাথে একসাথেই দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, জেলা সম্মেলনের ১০ মাস পর গত ২১ মার্চ রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ,যাতে ১০ বছর আগে গঠিত কমিটির ১৬ জন নেতা বাদ পড়েন।
বাদ পড়া নেতাদের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষন করলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, দলীয় কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নয়,এমন নেতাদেরই বাদ দেয়া হয়েছে। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে,তারা দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানাব এবং দলকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিষয়টি সম্পর্কেও অবহিত করব।’ সংবাদ সম্মেলনে ‘দীপংকর-মুছা সিন্ডিকেট রাজনীতি’র যে অভিযোগ,সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজেদের নিষ্ক্রিয়তায় কমিটি থেকে বাদ পড়ে এসব বলছেন এরা। এর কোন ভিত্তি নেই।’
