পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নৌ-পথের নাব্যতা উন্নয়ন এবং ল্যান্ডিং সুবিধাদি উন্নয়ন কল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই প্রকল্প যাচাই শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি ছিলেন ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব-উল- ইসলাম সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় নৌ-পথই প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে পানির প্রাবহ কম থাকায় নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে হ্রদে ড্রেজিং করা হলে শুস্কু মৌসুমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
বক্তরা আরো বলেন, কাপ্তাই হ্রদ প্রতিদিন যেভাবে দখল ও দূষণ হচ্ছে তাতে কয়েক বছরের মধ্যে প্রকৃত চেহারা হারিয়ে যাবে। হ্রদ দখল ও দূষণ রোধে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুধু কয়েকটি জয়গায় ড্রেজিং করলে আবারো পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। তাই পরিকল্পনার মাধ্যমে আগে নদীগুলোকে চিহ্নি করে খনন কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে।
বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব-উল- ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ নৌ-পথের নাব্যতা রক্ষা করা যাতে করে যাত্রী ও মালামাল চলাচলে বাধা তৈরি না হয়। আমরা ১৭৮ টি নদী নৌ-পথের নাব্যতা উন্নয়ন কাজ চলছে। বহু বছর ধরেই এই কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং এর বিষয়ে শুনে আসলেও দৃশ্যমান কিছুই লক্ষ করা যায়নি। কাপ্তাই হ্রদে যাতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করবো।
রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, শুধু কয়েকটি জয়গায় ড্রেজিং করলে আবারো তারাতারি পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। আগে যে নদীগুলো ছিল সেগুলো কোথায় ছিল তা খুঁজে বের করে সেইভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি এমনিতেই পাহাড় ধসের শংঙ্কা রয়েছে। তাই যাই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হউক না কেন, যাতে করে ভূ-প্রকৃতিগতভাবে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই প্রকল্প শুরু করতে হবে।
দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, রাউজান-রাঙামাটি চার লাইনের রাস্তার পরিকল্পনা কাজ করছে সড়ক বিভাগ। হ্রদ ড্রেজিং এর ফলে যে মাটি পাওয়া যাবে তা সেই কাজে লাগানো যেতে পারে। কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ফলে সবাই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে কিন্তু পানি শুকালে কিছু জমি তৈরি হয় সেখানে অনেকে চাষাবাদ করে। পাহাড়ে প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কাজে একটি গোষ্ঠি বাধা সৃষ্টি করে। আমি নিশ্চিত কেউ কেউ এটা নিয়েও রাজনীতি করতে চাইবে। জনপ্রতিনিধিদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষদের ব্যবহার করে কেউ যাতে রাজনীতি করতে না পারে সেদিকেও সবাইকে নজর রাখতে হবে।
