সাইফুল হাসান
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনাময় পার্বত্য জেলা রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে খুবই পছন্দের জায়গা। কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি, সবুজে ঘেরা সুউচ্চ পাহাড় এবং পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা, জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্যা ঝরণা দেখেতে সারা বছরই এ পার্বত্য জেলা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। পাহাড়ের এই পর্যটন শিল্প এখন তারুণ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণরাই এখন পর্যটন ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে প্রতিনিয়ত। তাই তো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বর্তমানে তরুণদের উদ্যেগে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন স্পট। হাউজ বোট, দ্বীপ কটেজ, রেস্টুরেন্ট সহ ট্যুরিস্ট গাইডেও তরুণরা কাজ করছে। এতে করে সম্ভবনার নতুন দুয়ার খুলেছে পর্যটন শিল্পে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের মেধা ও ইচ্ছে শক্তি পর্যটন শিল্পকে দেশসহ বহিঃবিশ্বের কাছে রাঙামাটিকে নতুন রুপে পরিচিত করে তুলছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নানান উদ্যোগ দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। তাই আশা করা যাচ্ছে পর্যটন শিল্পের দুর্দিন শেষে তরুণদের ছোঁয়ায় নতুন ভোরের আলো দেখতে শুরু করেছে এই শিল্পটি।
হিল ট্যুরিজম সার্ভিস’র সত্বাধিকারী গালিব হাসান জানান, হাউজ বোর্ট, রিসোর্ট এবং ট্যুরিস্ট গাইড সার্ভিসের মাধ্যমে সারা বিশ্বের যে সব পর্যটকরা আসছে তাদেরকে এই রূপের রানী খ্যাত রাঙামাটিকে আরও সুন্দর করে উপস্থাপন করার সুযোগ হচ্ছে। বর্তমানে ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতে বেশ কিছু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে আসছে এবং কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত রাঙামাটির স্বপ্নবুনন’র প্রতিষ্ঠাতা মুন্না তালুকদার বলেন, রাঙামটিতে তরুণদের কাজের ক্ষেত্র ছিলো খুবই স্বল্প। আমাদের এখানে তেমন কোন ব্যবসা বা কাজ করার মত তরুনদের ঐরকম সুযোগ ছিলো না বললেই চলে। চাকরির দিকে না ঝুঁকে তরুণরা বর্তমানে নিজেরা উদ্যোক্তা হচ্ছে। হাউজ বোট, রিসোর্ট এসব তৈরি করছে যা খুবই ভালো। এ কাজের মধ্য দিয়ে তরুণদের যেমন কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক তেমনি পর্যটন শিল্পও এগিয়ে যাচ্ছে।
গরবা’র সত্বাধিকারি বাদশা ফয়সাল বলেন, রাঙামাটির বাস্তবিক চিত্র বিবেচনায় বর্তমানে রাঙামাটির তরুণ সমাজের অনেকেই পযর্টন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে কাজে নেমে পড়েছে। অনেকে ট্যুর গাইডিং, পর্যটন স্পট সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। কেউ ইকো রিসোর্ট করছে, কেউ হাউজ বোট করছে। সব কিছুই পর্যটকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এবং পর্যটন সেক্টরকে এগিতে নিতে। এসবের মধ্যে দিয়ে তরুণ সমাজের অনেকেই দেখা যাচ্ছে নিজেদের ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী।
নীলাঞ্জনা বোর্ট ক্লাবের সত্বাধিকারি দীপাঞ্জন দেওয়ান বলেন, ট্যুরিজম সেক্টরে উন্নতি মানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি। আমরা রাঙামাটিটাকে যেনো সারা বিশ্বের কাছে ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারি সে উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নীলাঞ্জনা হাউজ বোট ক্লাব এটি করেছি আমরা মূলত আমাদের প্রমোদিনী হাউজ বোট গুলো রাতে যেনো এখানে থাকতে পারে এবং এখানে পর্যটনরা খাবার-দাবার করেতে পারে সে জন্যে। আমরা টার্গেট করেছি এবছর আমরা অন্তত ১২টি কটেজ করবো। সবগুলো ওয়াটার বাংলো হবে, কাপ্তাই হ্রদের উপরে। এগুলো ভিন্ন রকম কটেস যা বাংলাদেশে আগে হয়নি বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এখন অনেক তরুণরা এ শিল্পের দিকে ঝুকছে এটা খুব ভালো দিক, আমরা এটিকে ভালো হিসেবে দেখছি।
Previous Articleসুখবর নেই পাহাড়ের পর্যটনে
Next Article যেনো হ্রদের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে দোতলা এক বাড়ি !
