করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় রাঙামাটিতেও কঠোরভাবে মানা হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা। গত ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের দোকান-পাট। ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে জেলার বাইরে থেকে মানুষ আসা-যাওয়া। সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করছে প্রশাসন। ব্যক্তিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যারা নির্দেশনা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর ফলস্বরূপ এখনো রাঙামাটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগী পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এত কড়াকড়ির পরও জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি উপজেলাকে নিয়ে নতুনভাবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বেশ কিছু ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে সহস্রাধিক গার্মেন্টস কর্মী বাঘাইছড়িতে প্রবেশের কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে এই উপজেলায়। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এতোদিন অনেকটা নিশ্চিন্তে উপজেলাবাসী থাকলেও শত শত গার্মেন্টস কর্মী কোনও প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই উপজেলায় প্রবেশ করে যার যার বাসায় অবস্থানের কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, এতোদিন উপজেলায় করোনা নিয়ে তেমন একটা আতঙ্ক ছিল না। কারণ উপজেলাটি বড় আর মানুষও কম। কিন্তু হঠাৎ করেই বাইরে থেকে শত শত গার্মেন্টস কর্মী ট্রাকে ট্রাকে আসতে থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এছাড়া জনগণের মধ্যেও এখনো তেমন একটা সচেতনতা দেখা যায়নি। লোকজন কোনও কারণ ছাড়াই রাস্তা-ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন বলেন, দেড় থেকে দুই হাজার গার্মেন্টস কর্মী বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলায় ঝুঁকি বেড়ে গেছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। তবে প্রশাসনের নির্দেশনায় স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কঠোর নজরদারিতে তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, মানিকছড়ি হয়ে খাগড়াছড়িতে এসব গার্মেন্টস কর্মীদের চেক আপ শেষে তাদেরকে বাঘাইছড়িতে পাঠানো হয়। এরপরও আমরা তাদেরকে বাঘাইছড়িতে ঢোকার অনুমতি দিইনি। সারা রাত এসব মানুষ খোলা আকাশের নিচে ছিল। তারা এতদূর থেকে এত পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে আর তাদের বাসা থেকে কিছু দূরে তারা অবস্থান করছে, বিষয়টি ‘মানবিক’ দিক বিবেচনার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে অনুরোধ আসার পর ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জিম্মায় হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদেরকে উপজেলায় প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এতো মানুষ ছেলে মেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে, সেখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কে নিবে, সবকিছু বিবেচনায় তাদেরকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এসব মানুষ যেভাবে এসেছে, সেখানে তো আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়নি আর তারা যেহেতু বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে তাই স্বাভাবিকভাবে উপজেলায় করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও আমরা কঠোরভাবে বিষয়টি মনিটরিং করছি। সকলেই সচেতন থাকলে আশা করছি ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারবো।
বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, আমরা যদি করোনা প্রবন জেলাগুলো থেকে লোকজন আসা যাওয়া বন্ধ করতে সক্ষম হতাম, তাহলে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে শতভাগ নিরাপদ থাকতে পারতাম। বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন যে প্রচেষ্টা করেছিল বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসীকে করোনা থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু আমরা যৌক্তিক বাস্তবতার কাছে হার মেনে আগত মানুষদের ফিরাতে ব্যর্থ হয়েছি। নিজ এলাকা আসা তাদের অধিকার এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু, এখন সকলের উৎকণ্ঠা বেড়েই গেল, আগামী ১৫ দিন পর বুঝা যাবে পরিস্থিতি কেমন হয়। স্থানীয় জনগণ যদি সচেতন হয়ে আগত লোকদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখতে না পারে তাহলে বাঘাইছড়ির পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। যা আমরা কেউই কল্পনা করতে পারবো না।
