মিশু মল্লিক
আজ মহাষষ্ঠী। দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিন ব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। দেবীর আরাধনায় মত্ত হবেন প্রত্যেকটি সনাতনী প্রাণ। দেবীকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাঙামাটির মন্দিরগুলো।
প্রতিবছরের মত এইবছরও রাঙামাটির সর্বপ্রাচীন মন্দির তবলছড়ির শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে মহাসমারোহে। চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। কালীবাড়ির এই বারের থিম ঢাকের সাজ। ঢাকের সাজে সাজানো হয়েছে মা দুর্গা, ল²ী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক প্রতিমাকে। সদ্য নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নতুন মন্দিরে হবে এবারের পূজো।
এবারের আয়োজন সম্পর্কে তবলছড়ি শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি কনক দাশ শুভ বলেন, রাঙামাটির সর্বপ্রাচীন এই মন্দিরে এবারও আমরা সাত্তি¡কভাবে মায়ের পূজার আয়োজন করেছি। এবারের পূজায় আমরা একটি নতুনত্ব এনেছি। মায়ের যে আদি রাজর্ষি রুপ সেই ঢাকের সাজে মাকে আমরা এবার সাজিয়েছি। পূজোর এই পাঁচটা দিন আমরা সাত্তি¡কভাবে মায়ের আরাধনা করবো। রাঙামাটির সর্বস্তরের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের কমিটির পক্ষ থেকে পূজো দর্শনের নিমন্ত্রণ ও শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রণধীর চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছরই আমরা আমাদের পূজোয় নতুন কিছু সংযোজনের চেষ্টা করি। তবে সবসময় আমাদের চেষ্টা থাকে যাতে আমরা সাত্তি¡ক ও শাস্ত্র সম্মত উপায়ে মায়ের পূজা করতে পারি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা মাকে ঢাকের সাজে সাজিয়েছি। আশা করছি এবারের পূজা রাঙামাটিবাসীর নজর কাড়বে।
রাঙামাটি গীতা শিক্ষা সমন্বয় কমিটির অর্থ সম্পাদক বিজয় কর বলেন, ধীরে ধীরে আমাদের মধ্য থেকে সাত্তি¡কভাবে পূজা আয়োজনের রীতিটি হারিয়ে যাচ্ছে। পূজাতে ডিজে, মায়ের রুপ বিকৃতিসহ নানান অসঙ্গতি আমরা লক্ষ্য করছি, যা মোটেও উচিত নয়। নানান অসঙ্গতির ভিড়ে রক্ষা কালীবাড়ির সাত্তি¡কভাবে পূজা করার এই উদ্যেগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
শনিবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং বুধবার (৫ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।
Previous Articleকাউখালী উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর-মোতালেব
Next Article রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন কবে ?
