স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা ভালো মনে না হওয়ায় সাজেক ইউনিয়নের জপুই পাড়ার এই যুবককে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে প্রেরন করা হয়েছে আজ রবিবার। বিকাল সাড়ে ৪টায় থাকে সাজেক থেকে চট্রগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল (বুধবার) রাঙামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের জপুই এলাকাতে জুম চাষের সময় উঁচু পাহাড় হতে দূর্ঘটনাবশতঃ পড়ে গিয়ে নিচে থাকা বাঁশের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হন যতীন ত্রিপুরা। স্থানটি অত্যন্ত দূর্গম হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা সুবিধা খুবই অপ্রতুল। এই অবস্থায় আহত যতীন ত্রিপুরাকে নিকটতম জপুই বিওপিতে আনা হলে বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু আঘাতের মাত্রা বিবেচনা করতঃ জীবন রক্ষার্থে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়া প্রয়োজন বলে বিজিবি কর্তৃক বিষয়টি খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নকে জানানো হয়।
অতঃপর খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ২৪ পদাতিক ডিভিশন (চট্টগ্রাম সেনানিবাস)’কে অবহিত পূর্বক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেন।
এরই প্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জহুর ঘাঁটি’র একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে যতীন ত্রিপুরাকে প্রথমে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
একজন খুব সাধারন অসহায় বিপন্ন মানুষের জন্য সেনাবাহিনী ও বিজিবির এই ভালোবাসা মুগ্ধ করেছে এলাকাবাসীকেও।
সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানিয়েছেন , আমরা চাই এভাবেই আমাদের বিপদে আপদে আমাদের পাশে থাকুক দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বিজিবি। একজন সাধারন জুমিয়া চাষির চিকিৎসার জন্য তারা আজকে যে কাজটি করলো আমরা সাজেকবাসি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।
প্রসঙ্গত, এর আগে সাজেক এর কয়েকটি গ্রামে হাম এর প্রাদুর্ভাবে আকস্মিক কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক সেখানে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে বেশ কিছু শিশুকে চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম নিয়ে যায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি। পরে আবার চিকিৎসা শেষে একইভাবে তাদের পৌঁছে দেয়া হয়।
