বদলালো না ইতিহাস। ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়েই ফের দায়িত্বে ফিরলেন রাঙামাটি নগর আওয়ামীলীগের দুই কান্ডারি। ফলে আরো তিন বছরের জন্য পাকাপোক্ত হলো দুই হেভিওয়েট নেতার। কাউন্সিলে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় বিনাভোটে,বিনা চ্যালেঞ্জেই আরো এক মেয়াদের জন্য সভাপতি-সম্পাদক হলেও কাউন্সিলের আগের ক’রাতের নির্ঘুম ঘুমই হয়তো জানিয়ে দিয়েছে সোলায়মান চৌধুরী আর মনসুর আলীকে,সামনে এখনো বিস্তার কন্টকাকীর্ণ পথ,পাড়ি দিতে হবে বহু চ্যালেঞ্জ এবং উত্তাল সমুদ্র-দুর্গম পাহাড়ও।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গড়ায়নি কাউন্সিল। সকাল থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়নজুড়ে নেতাকর্মীদের থেমে থেমে চলা শ্লোগানই জানান দিচ্ছিলো,কাউন্সিল বলে আদতে কিছুই হবেনা। বিগত ১৭ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিনা লড়াইয়ে সভাপতি সম্পাদক হচ্ছেন ‘সোলায়মান-মনসুর’ মানিকজোড়।
আগের রাতেই নেতৃত্বে হিসেব নিকেষ মিলে যাওয়ায়, কাউন্সিল ঘিরে তাই ছিলোনা কোন উত্তাপও। লড়াইহীন কাউন্সিলে সভাপতি সম্পাদক হিসেবে নাম প্রস্তাবিত হলেও তাই প্রতিপক্ষহীন মিলনায়তনে দ্রুতই সাড়া মেলে,করতালি আর শ্লোগানেও। ফের সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী,সম্পাদক মনসুর আলী।
আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবারের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বসে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে যাবতীয় হিসেব নিকেশ। প্রত্যাশিত পদ ছাড়ার বিপরীতে দেয়া হয়েছে উঞ্চ আশ্বাসও। সেই আশ্বাসের টোপ মুহুর্তেই গিলে নেয়া দুই প্রতিদ্বন্দ্বিদের মঞ্চেও তাই দেখা গেলো ফুরফুর মেজাজে। পুনর্বার বিজয়ী বা ঘোষিত সভাপতি-সম্পাদকের পাশেই তাদের উপস্থিতি ছিলো পুরোটা সময়জুড়েই,চেহারায়ও ছিলোনা ন্যুনতম বিষাদও। ফলে ভোটযুদ্ধে নামার আগেই হেরে বসা সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য কাউন্সিলরদেরও ছিলো কোন আফসোস বা হাহাকারও। যেনো খেলার আগেই ফলাফল জেনে বসে থাকা দর্শক সবাই।
তবে টানা বিজয়ী হয়ে ফুরফুরে মেজাজে সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী। মনসুর আলী কাউন্সিলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নেতাকর্মীরা আমাদের উপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে,আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা চেষ্টা করব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে এই জেলায় আরো শক্তিশালি করার জন্য।’
নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ এই নেতা আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিলো নেতাকর্মীদের প্রতি,তারা আমার এই বিশ্বাস ও আস্থার মূল্যায়ন করেছে। এখন আমিও চেষ্টা করব বরাবরের মতোই তাদের পাশে থেকে কাজ করতে।’
