খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সাঁওতাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ভোরে তিনি মারা যান। এদিকে মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সেলাইন ও ঔষধ দেন। সে অবস্থায় সুমাইয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
জানা যায়, দীর্ঘ মাস ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন ফাতেমা বেগম। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
অন্যদিকে আজ সুমাইয়ার এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। পরিবারের সবাই শোকে কাতর। সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে সেলাইনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বিষয়টি জানার পর পানছড়ি থানার ওসি আনসারুল করিম ছুটে যান এবং পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দেন। পরে নিজের গাড়িতে সুমাইয়াকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। এমন পরিস্থিতিতে সুমাইয়া পরিক্ষায় অংশ নেয়।
সে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগের মেধাবি শিক্ষার্থী।
পানছড়ি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বেলি চাকমা বলেন, পরীক্ষার সময় সুমাইয়ার প্রতি আমি বিশেষ নজর রেখেছিলাম। সে কোন রকম অসুবিধা ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আনচারুল করিম বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। এই মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। আজকেই তার মা মারা গেছে। মেয়েটা হসপিটালে ছিল। আমি নিজেই হসপিটালে গিয়ে মেয়েটাকে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় নিজের গাড়িতে করে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পর দ্রুত কেন্দ্রে দিয়ে আসি। পরীক্ষার টেবিলে নিজেই বসিয়ে দিয়ে আসি।
এদিকে দুপুরে স্থানীয় কবরস্থানে ফাতেমা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।
