সন্ত্রাস নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর চিরুনী অভিযান। শনিবার দুপুর থেকে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী রয়েছে। আগামি ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে যৌথ বাহিনীর এ অভিযান। অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণস্থানে কয়েকটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব চেকপোস্টে তল্লাশী চলছে। এছাড়া জনমনে স্বস্তি ও আসন্ন ঈদ উল আযহা নির্বিঘেœ পালন করতে এ অভিযান বলেও জানান তিনি।
এসময় পুলিশ সুপার কথা বলেন, গত শনিবারে ব্রাশ ফায়ারে ৬ জন নিহতের বিষয়েও। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে ইতিমধ্যে কিছু তথ্য রয়েছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেও জানান পুলিশ সুপার। ঘটনার সাথে কারা জড়িত বা চিহ্নিত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ’র প্রতিপক্ষ এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এসএমজি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামি ৭ কর্মদিবসে কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। স্বনির্ভর হত্যাকান্ডের ৩৬ ঘন্টা পার হলেও এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থতি বিরাজ করছে। বন্ধর রয়েছে বেশিরভাগ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। জনমনে রয়েছে আতঙ্ক। ঘটনাস্থলে এখনও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। ফের সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে, শনিবারে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত ৬ জনের রবিবার দুুপুরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে তিনজন। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার ঘটনায় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিএিফ-এর তিন নেতাকর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় প্রাণ হারান আরোও তিন পথচারী। পরে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে আবারো সশস্ত্র হামলা চালানো হলে নিহত হন আরো একজন।
নিহতরা হলেন, ইউপিডিএফ (প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তপন চাকমা, সহ সাধারণ সম্পাদক এল্টন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা শাখার সহ সভাপতি পলাশ চাকমা, উত্তর খবংপয্যা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলার মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা (৫৩), একই গ্রামের কান্দারা চাকমার ছেলে রুপম চাকমা,টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ধীরাজ চাকমা ও শন কুমার চাকমা।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ তিন সংগঠন।
