তহিদুর রুবেল, পানছড়ি ॥
মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে, খাগড়াছড়ি থেকে পানছড়ি ২৫ কিলোমিটার পথ দৌড়ে পাড়ি দিলেন আহসান হাবীব তসলিম। তিনি পানছড়ি উপজেলার কলোনী পাড়ার আব্দুল ছাত্তার-রৌশনারা বেগম দম্পতির সন্তান। পেশায় ব্যবসায়ী ও এক সন্তানের জনক তসলিম এই ম্যারাথন দৌড়ের জন্য এক মাস ধরে প্রস্তুতি নেন। খাগড়াছড়ি চেঙ্গী স্কয়ার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ০৩মিনিটে দৌড় শুরু করে, প্রায় তিন ঘণ্টায় ০৮টা ৫৩ মিনিটে পানছড়ি বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে পৌঁছান। এইসময় বিভিন্ন স্তরের মানুষ ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।
পানছড়ি সদর ইউনিয়নের আনসার প্লাটুন কমান্ডার নাসির মাহমুদ এবং বন্ধুরা আহসান হাবীব তসলিম-কে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে জানান, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি ২৫ কিলোমিটার পথ সফলভাবে শেষ করায় তাঁকে অভিনন্দন জানাই। তিনি নিজ থেকে যেভাবে এই উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেছেন, তা এককথায় অভূতপূর্ব ঘটনা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উৎপল চৌধুরী উজ্জ্বল বলেন, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এমন একটি ব্যতিক্রমী কাজ খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই আনন্দিত। তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগের এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আশাকরি তাঁর এই অনন্য দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য প্রেরণার উৎস হবে।
আহসান হাবীব তসলিম জানান, আমি একমাস ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আমার নির্ধারিত সময় ছিলো আড়াই ঘন্টা কিন্তু আমার লেগেছে ২ ঘন্টা ৫০ মিনিট। খাগড়াছড়ি চেঙ্গী স্কয়ার থেকে যাত্রা শুরু করে পানছড়ি বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে দৌড় সম্পন্ন করি। সকাল ৬টা ০৩মিনিটে দৌড় শুরু করি এবং শেষ করি ৮ টা ৫৩ মিনিটে। ২০ মিনিট বেশি লাগলেও দৌড়টি সম্পন্ন করতে পারায় আমি আনন্দিত। কোনো বিশেষ খ্যাতি বা স্বীকৃতির জন্য আমি এই কাজটি করিনি। করেছি নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য। ব্যর্থ হলেও কোনো দুঃখ থাকতো না। চেয়েছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এমন কিছু একটা করতে, যা নিজের জীবনে একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার জন্য দৌড় খুবই কার্যকর। স্বাস্থ্যই সম্পদ আর স্বাস্থ্যই সকল সকল সুখের মূল সেটা আমরা সকলেই জানি। আমি চাই তরুণ প্রজন্মের কেউ আমার এই রেকর্ডটি ভেঙে দিক, এবং দৌড়ের একটি সংস্কৃতি তৈরি হোক। যে-সকল ভাই ও বন্ধুরা আমার পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়েছেন, সমর্থন করেছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের সকলকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
