পার্বত্য জনপদের মানুষের অধিকার আর স্বাধীকারের কথা বলেই আত্মপ্রকাশ করেছে পাহাড়ে বসবাসকারি পাহাড়ীদের একের পর এক আঞ্চলিক দল। এদের প্রায় সবাই লিখিত দাবি বা গঠনতন্ত্র প্রায় একই রকম হলেও বাস্তবতা হলো ভিন্ন। চারটি দলের সবার মধ্যে শুধু একটিই মিল,সেটি হলো, এককালে এরা সবাই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এরপর একে একে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা),ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গনতান্ত্রিক)। দাবি বা চিন্তার নৈকট্য তাদের মধ্যে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে তো পারেইনি,বরং একের পর সংঘাত আর আঘাত-পাল্টা আঘাতে প্রাণ ঝড়েছে অন্তত: এক হাজার নেতাকর্মী সমর্থকের। ২৪ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের পর পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে শান্তিবাহিনীর বিলুপ্ত হলেও থামেনি অস্ত্রের ঝনঝনানি। বরং এক শান্তিবাহিনীর জমা না দেয়া অস্ত্রেই এখন চলছে চার সংগঠন।
প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর একটি সংগঠন আরেকটি সংগঠনকে দোষারোপ করবে, আর সেই সংগঠন সেটা অস্বীকার করবে,এটাই নিয়ম পাহাড়ের। এই নিয়মের ঘেরাটোইে বন্দী পাহাড়। সর্বশেষ বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়ির ঘটনাতেও একই দৃশ্যের পুন:মঞ্চায়নই হয়েছে।
বাঘাইছড়ি হত্যাকান্ডের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার জেএসএস’র এর বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জন নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের উপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ কে দায়ি করেছেন। ’
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ঘটনার সাথে আমাদের দুরতম সম্পর্কও নেই। কারণ ওই এলাকায় আমাদের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম বা অবস্থান নেই। ওইটা পুরোটাই ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রিত এলাকা। আর আমরা যেহেতু সকালেই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি,আমরা কেনো এমন কাজ করব। আমরা গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী,গনতান্ত্রিক আন্দোলনেই আমাদের আস্থা আছে।
অন্যদিকে ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানিয়েছেন, ‘ এই ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের কারো কাজ নয়। এই নির্বাচনে আমাদের এইখানে কোন প্রার্থীও ছিলোনা। আমরা কেনো এই কাজ করতে যাবো ?’
এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর পারষ্পরিক অভিযোগের ঘেরাটোপেই ঘুরপাক হচ্ছে পাহাড়ের রাজনীতি,গত দুই দশক ধরেই। কেউ জানেনা,এ থেকে মুক্তি মিলবে কবে।
