কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, কানামাছি আজ বিলুপ্তির পথে। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন, ভিনদেশি খেলার প্রভাবে বর্তমান প্রজন্ম আজ ভুলে গেছেন সেই সব গ্রামীণ খেলা। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাংলার বিভিন্ন গ্রামে আয়োজন হতে এই সব খেলাধুলা। তাই গ্রামীণ এই খেলাধুলাকে আবারও পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এলজিএসপি -৩ এর অর্থায়নে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত ২৭ মার্চ হতে কাপ্তাই নতুনবাজার আনন্দ মেলা মাঠে ২ দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাধুলার আয়োজন।
কাপ্তাই লগগেইট, নতুনবাজারসহ কাপ্তাই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড হতে যুবক, বুড়ো নানা বয়সের লোকজন এই সব খেলায় অংশ নেন। উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রীড়ামোদী দর্শক তুমুল করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এই সব খেলা উপভোগ করেন।
খেলা দেখতে আসা কাপ্তাই নতুনবাজার এলাকার মোঃ শরাফত আলী জানান, আমাদের ছোট বেলায় এইসব খেলা আমরা দল বেঁধে খেলতাম, কতোই আনন্দ পেতাম, কিন্তু আজ মাঠে এই সব খেলাধুলা চোখে পড়ে নাই। কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের এই আয়োজন আমাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই ছোট বেলায়।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা হা- ডু- ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা সহ নানা খেলাধুলা বর্তমান প্রজন্মের কাছে আবারও নতুন করে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আয়োজন। আশা করি আমরা হারিয়ে যাওয়া এই সব খেলাধুলাকে আবারও জনপ্রিয় করতে পারবো।
এদিকে গত ২৭ মার্চ কাপ্তাই নতুনবাজার আনন্দ মেলা মাঠে ২ দিনব্যাপী এই খেলার উদ্বোধন করেন কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ। এইসময় কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ক্রীড়াবিদ কাজী মাকসুদুর রহমান বাবুল, কাপ্তাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সামসুল ইসলাম আজমীর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকতার আলম, নতুনবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির একরামুল হকসহ ইউপি সদস্যবৃন্দ।
