কাপ্তাই প্রতিনিধি
কাপ্তাইয়ে চুরির ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি এলাকার মসজিদের দানবাক্স, মাদরাসা, দোকানপাট ও একাধিক ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে জনগণ চুরি আতংকে দিন কাটাচ্ছে। রবিবার নতুন বাজারে কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা রব ও কাপ্তাই থানার ওসি মোঃ জসিম উদ্দিন চুরি হওয়া একটি বিল্ডিংয়ের বাসায় পরিদর্শন করেন। শনিবার রাত প্রায় সাড়ে আটটায় নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের বিল্ডিংয়ের বাসার দরজা ভেঙ্গে এবং স্টিলের আলমিরা ভেঙ্গে নগদ ৩ লাখ টাকা ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। প্রাইভেট পড়তে যাওয়া মেয়েকে আনতে গেলে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী জানান। তিনি আরও জানান, প্রাইভেট পড়া থেকে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরে দেখেন সবকিছু ভেঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা নিয়ে গেছে। তেমনি গত শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে বিএফআইডিসি মসজিদের দানবাক্স ভেঙ্গে সকল ধরনের দানের টাকা পয়সা নিয়ে যায় বলে মসজিদে মোয়াজ্জিন জানান। একইদিন রাতে একই এলাকার সুইডিশ মসজিদের দানবাক্স এবং এবং দারুল উলুম এতিম মাদরাসার অফিস কক্ষের লকার ভেঙ্গে প্রায় লক্ষধিক টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। সুইডিশ মাদরাসা পরিচালক ও মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মোকাম্মেল হোসেন জানান, মাদরাসা শিক্ষকদের মাসিক বেতন ও এতিম শিক্ষার্থীদের মেসের টাকা ছিল সেখানে। তিনি কাউকে বিচার না দিয়ে আল্লাহ্র নিকট এবিষয়ে বিচার চেয়েছেন বলে জানান। এছাড়া, গত ২-৩ মাস পূর্বে জাকির হোসেন স্’ মিল এলাকায় নওমুসলিম আব্দুর রহিমের দোকান হতে নগদ টাকা,সিগেরেট, সাবান নিয়ে যায়। গত ২ ডিসেম্বর স’ মিল এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ও মাসুমের দোকান হতে রাতের বেলা বেশকিছু মেশিনারিজ জিনিসপত্র নিয়ে যায়। একইভাবে শিল্প এলাকার বটগাছের নিচের ব্যবসায়ী তোফাজ্জলের মুদিদোকান হতে নগদ টাকা ও সিগেরেট চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাছাড়া নতুন বাজার ব্যবসায়ী সোহেলের বাসায় ঢুকে মোবাইল চুরির ঘটনে ঘটেছে এবং স¤প্রতি বাংলাদেশ সুইডিশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চুরির প্রচেষ্টা চালায় চোরের দল। সিসি ক্যামেরার সুত্রে একজনকে আটক করা হয় বলে থানার ওসি জানান। কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় এধরনের চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জন সাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই জানান, পুলিশের তৎপরতা কমে যাওয়ায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে এলাকায়। তাছাড়া, এলাকায় মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে এলাকার কতিপয়রা জানায়। এবিষয়ে পুলিশের রাতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন। কাপ্তাই ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মজিব জানান, একের পর এক চুরি সংঘটিত হওয়া দুঃখজনক। এব্যাপারে পুলিশের টহল জোরদার করা প্রয়োজন। কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহিনুর রহমান জানান, পুলিশের পাশাপাশি জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি জানান, আমাদের কোন টহল দেয়ারমত গাড়ি নেই। তবে টহল বৃদ্ধি করা হবে। এবং নতুন বাজারের চুরি হওয়া মালামাল ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার অভিযান চলছে। মামলা করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
Previous Article২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটিতে বইমেলা
Next Article গল্পটা এক ‘গ্রন্থকুটির’র
