‘মনোনয়ন নিশ্চিত করার আগে অনেকের মধ্যে অনেক ধরণের চিন্তা ছিলো। প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কী মনোনয়ন পাবে নাকি ১৪ দলীয় জোট কিংবা মহাজোটের কেউ এ আসনটি নিয়ে নিবে। আমি তখনই সবাইকে বললাম আপনারা নিশ্চিতে থাকুন। কোনও প্রকার গুজবে কান দিবেন না। কারণ অনেকে বলছে ওমুক নেতাকে তমুকের সাথে দেখেছি! ওমুক নেতা তমুক নেতার সাথে বৈঠক করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।’
সোমবার বিকালে শহরের বনরূপাস্থ আওয়ামীলীগের নির্বাচন কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া জেএসএস’র এমপি ঊষাতন বলেছেন, আমাদের সাথে সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে’। এই নিয়ে নানান কথাবার্তা ছড়িয়ে ছিলো চারদিকে। কিন্তু শেষ বিকালে আমরা দেখতে পাই মনোনয়নপত্র আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। এখন আমাদের একদিকে রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ ঐক্যফ্রন্ট অন্যদিকে জেএসএস। ঐক্যফ্রন্ট-জেএসএসকে দুর্বল ভাবা চলবে না। দলের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এবার যদি আমরা এ আসনটি হারায় তাহলে আগামীতে এ আসনটি পুনঃরায় ফিরে পেতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হবে।’
সভায় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বৃষ কেতু চাকমা, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জমির উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনছুর আলী, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘আমাদের পাশের জেলাসহ অন্যান্য সকল জেলায় আওয়ামীলীগ থেকে একের অধিক প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছে। কিন্তু রাঙামাটির ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। যখন মনোনয়ন দিচ্ছে তখন আমি সকল নেতাদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে দাদা আমরা আপনার জন্য মনোনয়নপত্র নিয়ে আসবো। সেটাই দেখা গেলো, তারাই কষ্ট করে আমার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছে। এতে বুঝা যায় আমরা দলীয় ভাবে সুশৃঙ্খল। এশৃঙ্খল আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেখা গেছে নির্বাচন অফিসে অনেক মানুষ, যেখানে আমরা গেছি সেখানেই মানুষ। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে কোনও মানুষ নেই। তাই আমাদেরকে এবার ঘরে বসে থাকলে হবে না, হয়ে গেলো এবং হয়ে যাবো এ মনোভাব নিয়ে থাকলে চলবে না। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
