প্রান্ত রনি ॥
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)’সমূহকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক এলাকায় কর্মপরিধি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। বলেছেন, ‘উপজেলা সদরকেন্দ্রিক এলাকার মানুষ প্রান্তিক এলাকার মানুষের চেয়ে অনেকাংশে অগ্রসর এবং কমবেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে প্রান্তিক এলাকার মানুষ এসব সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত থাকেন।’ রোববার দুপুরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা-বোনদের সমস্যা-সংকট দূরীকরণে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তাই শহুরে এলাকার চেয়ে প্রান্তিক এলাকা যেমন; জুরাছড়ির দুমদুম্যা, মৈদং, বিলাইছড়ি বড়থলিসহ এমন দুর্গম এলাকায় কাজ বাড়ানো দরকার। শহুরে এলাকার মানুষ এসব অঞ্চলের মানুষের চেয়ে কিছুটা অগ্রাধিকার পান। তিনি বলেন, পরিবারে মা-বোন যদি সুস্থ ও সুন্দর না থাকে তাহলে আমরা পারিবারিকভাবেই শান্তিতে থাকবো। অন্যথায় কোন অভাববোধ না থাকলেও প্রশান্তি মিলবে না। তাই আমাদের অনেক বেশি সামাজিক ও পরিবারিক সচেতনতা গড়ে তোলতে হবে। সামাজিক আন্দোলন না থাকলে সবকিছু আইন দিয়ে সুরাহা হয় না।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলো স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ, উইভ, হিল ফ্লাওয়ার ও টংগ্যা। ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের অধীনে পাহাড়ের প্রান্তিক নারী-কিশোরীদের যৌন স্বাস্থ্যসহ এ সর্ম্পকিত সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এদিন কার্যক্রমের অগ্রগতি, অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রোগ্রাম অফিসার সঞ্জয় মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল আজিম, জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নীতিশ চাকমা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রূপনা চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ানম্যান চিরণজিৎ তঞ্চঙ্গ্যা, পাড়া কার্বারি শান্তনা খীসা প্রমুখ। এছাড়া প্রোগ্রেসিভের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা, টংগ্যা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ডা. পরশ খীসা, হিল ফ্লাওয়ারের নির্বাহী পরিচালক নিলু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, উইভ’র নির্বাহী পরিচালক নাই উ প্রু মারমা, নারী প্রগতি সংঘের মাস্টার ট্রেইনার রিমি চাকমা, প্রকল্পের মেন্টরসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক কাঠামো নারী ও কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত ও নারীর সামাজিক ক্ষমতায়ন, শারীরিক ও যৌন স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। এখনো এখানকার প্রান্তিক মানুষ নারীদের সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারেনি, নানা ধরণের কুসংস্কারে বিশ্বাসী। যে কারণে নারী-কিশোরীরা যৌন সহিংসতা, বিভিন্ন ধরণের হয়রানি এবং হেনস্তার শিকার হন। স্বাস্থ্যসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মাসিক ব্যবস্থাপনা এবং যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, অধিকার বিষয়ক তথ্য, উপকরণ ও সহায়তার সংকটে ভুগে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো ও সামাজিক পরিবর্তনই প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২০ সালে গ্রহণ করা চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় ১০টি এনজিও দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। রাঙামাটির লংগদু ব্যতিত অন্য নয় উপজেলায় চারটি এনজিও কাজ করে আসছে। প্রকল্পের লক্ষ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১২ হাজার নারী ও কিশোরীকে ক্ষমতায়িত করা, মাসিক স্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য ও অধিকারবিষয়ক সহযতা প্রদান করা। পারিবারিকভাবে সচেনতনা বৃদ্ধি করা।
