জিয়াউল জিয়া/সাইফুল হাসান
পৃথক দুটি ঘটনায় শহরের একমাত্র গণপরিবহন অটোরিক্সা পোড়ানো ও ভাংচুরের পর ঘোষণা করা রাঙামাটি শহরের অনির্দিষ্টকালের াটোরিক্সা ধর্মঘট,বেলা এগারোটাতেই প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাঙামাটি অটোরিক্সা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ^াসে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলছেন,‘ রবিবার সকালে আমাদের রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার আমাদের সাথে কথা বলেছেন,পুড়িয়ে দেয়া গাড়ির চালকের বাসায় গিয়ে তাকে গাড়ি কিনে দেয়ার আশ^াস দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার প্রশাসন সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিবে, এমন আশ^াস দেয়ায় আমরা বেলা এগারোটায় সমাবেশ করে কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’ তবে যদি আমাদের দাবি মানা না হয় এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয় তবে আবারো কঠোর কর্মসূচী পালন করব আমরা।
সকাল এগারোটায় সারা শহরের অটোরিক্সা চালকরা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কের সমাবেশে উপস্থিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন চালক সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদার,সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুসহ সংগঠনের নেতারা। তারা রাঙামাটির বিভিন্ন সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং যে গাড়ী পোড়ানো হয়েছে ও ভাংচুর করা হয়েছে সেই গাড়ি দুটির ক্ষতিপূরণ প্রদান,ইতোপূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের পর নিখোঁজ অটোরিক্সা চালকদের উদ্ধার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এর আগে গত শুক্রবার দিনেদুপুরে রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের আগরবাগান এলাকায় ‘চাঁদার টোকেন না থাকা’য় একটি অটোরিক্সা পুড়িয়ে দিয়ে সন্ত্রাসীরা। এর পরদিন শনিবার রাত দশটায় শহরের আসামবস্তি এলাকায় আরেকটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। এই দুই ঘটনার পর রবিবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় অটোরিক্সা চালক-মালিক সমিতি।
প্রত্যাহারের আগে সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেন অটোরিক্সা চালকরা। তারা টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভও করে শহরের পুরাতন বাস স্টেশন, বনরূপা,তবলছড়ি,রিজার্ভবাজার,বনরূপা,কলেজগেইট এলাকায়।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ধর্মঘটের কারণে অফিস ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়েন বিপাকে। তবে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ধর্মঘটের আওতার বাহিরে ছিলো। কোন বিকল্প না থাকায় অনেককেই পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। দুরপাল্লার বাস চলাচল ও জেলার সাথে অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। বেলা এগারোটায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করে শহর।
এদিকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই সভায় জেলার বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়েছে।
