‘কাপ্তাই লেক ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা বরিবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা মৎস্য আফিস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাকে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ। রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন ও বিপনন ব্যাবস্থাপক আসাদুজ্জামানে সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির বনসংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মৎস্য চাষীরা।
অভিজ্ঞতা শেয়ারিং পর্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চাষীরা তাদের এলাকায় মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা একদিন কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে যা উপলব্ধি করেছি তা হলো এখানকার পানির মান খুবই ভাল, গভীরতা রয়েছে প্রচুর, ফলে এখানে প্যান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে এবং এই মাছ বিদেশে অনায়াসে রপ্তানি করা যাবে। পুকুরে মাছ মান সম্মত না হওয়ার কারণে বিদেশে রপ্তানি করা যায় না। ফলে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হয়।
চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ, সরকারের লক্ষ হলো প্রথম স্থান দখল করা। তাই মিঠা পানির মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই এই সুবিশাল হ্রদকে কাজে লাগাতে চাই, এখান কার চাষীদের সব বিষয়ে সহযোগীতা করতে চাই, এই হ্রদে যদি পরিকল্পনা মাফিক মাছ চাষ করা যায় তাহলে এ হ্রদ থেকেই ৩/ ৪ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। তবে এ সাফল্য পেতে চাইলে মাছকে খাদ্য দিতে হবে।
বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারি বলেন, বনের সাথে হ্রদের সম্পর্ক নিবিড়। এখানে বৃষ্টিতে বন ধৌত হয়ে হ্রদে পরে, তা থেকেই হ্রদে বিভিন্ন ছোট প্রানীর জন্ম হয়। যা খেয়ে মাছ বড় হয়, এখানে কৃত্রিম খাবারের প্রয়োজন হয়না। বন বিভাগ আগের মত মনগড়া বনায়ন করে না, গবেষণা করে কোন জাতীয় বৃক্ষ রোপন করে থাকি, এক সময় বন বিভাগের পাহাড়ে ভুল বনায়ন করেছে, যা এখন আর করেনা, বানিজ্যিক দিক বিবেচনায় আমরা কোন পদক্ষেপ নেইনা। আমরা বন বাঁচাতে কাজ করছি।
জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, কাপ্তাই হ্রদ একটি বিশাল জলাধার, এর রক্ষনাবেক্ষন করা অনেক কঠিন, তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যার ফলে এই হ্রদ এখনো এ অবস্থায় আছে, তা না হলে এর অবস্থা আরও শোচনীয় হতো। হ্রদ যে যার মত করে দখল করেছে, আমরা আর একটা খুটাও হ্রদের বুকে পড়তে দিবোনা, কিভাবে এ হ্রদকে দখল মুক্ত করা যায় সেটা নিয়েই কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, এখানে মাছ চাষ হয়, বিএফডিসি মাছের পোনা ছাড়ে আর সকলে তা ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এখানকার মানুষের জীবিকা বনজ ও মৎস্য সম্পদের ওপরে নির্ভশীল। তাই এই হ্রদ নিয়ে হুট করে কোন সিদ্ধন্ত নেয়া যাবেনা। যেমন এখানে বিএফডিসি ও মৎস্য গবেষনা ইনিসটিটিউটের মধ্যেই মত বিরোধ রয়েছে ক্রিক আর প্যান পদ্ধতি নিয়ে, এখানে মাছের প্রাকৃতিক প্রজজন হয়। আমরা যদি মাছের প্রজনন স্থানগুলো চিহ্নিত করে রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারি তবে এমনিতেই হ্রদের মাছের উৎপাদন বেড়ে যাবে। ছোট মাছ আহরণের ক্ষেত্র জেলেদের সচেতন হতে হবে যাতে পোনা মাছ না ধরে।
হ্রদ বিষয়ক এই আলোচনা সভার আয়োজক ছিল আসসালাম এগ্রোটেক লিমিটেড।
Previous Articleরাঙামাটিতে ছাত্রলীগ নেতার পরীক্ষার রুটিন বিতরণ
Next Article বান্দরবান সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ২০০ শরণার্থী
