সুহৃদ সুপান্থ
‘আমার ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, এর দায় কি আমার ? এটা কি আমার অপরাধ ? এই দোষে আমাকেই বহিষ্কৃত হতে হবে ? আমার ভাতিজা নির্বাচন করছে, এই অভিযোগ ছাড়া আর কোন অভিযোগই তো নেই আমার বিরুদ্ধে, এই কারণে যখন আমাকে বহিষ্কার করা হয়,তখন কিইবা আর বলার থাকে। তবে এটা অন্যায়। আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে।’
সোমবার সন্ধ্যায় দল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর এভাবেই নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম।
পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে তিনি জানিয়েছেন, সন্ধ্যের পর ফেসবুকে নানাজনের পোস্ট থেকে আমি বিষয়টি জানতে পারি,দলের কেউ আমাকে ফোন করেনি, আমি কাউকে ফোন করিনি। এতবছর থেকে দল করি,কদিন আগে একটা মিটিং এর যাইনি বলে শোকজ করলো, অথচ আজ বহিষ্কার করার আগে একবার ‘আমার অপরাধটা কি’ সেটাও জানতে চাইল না কেউই !’
রহিম বলেন, আমার ভাতিজা রকিব নির্বাচন করছে, আমি তাকে বুঝিয়েছিলেন,কিন্তু সে নির্বাচনের ব্যাপারে অনঢ়,তার বন্ধু,স্বজন সমর্থকদের নিয়ে সে নির্বাচন করছে,আমিতো তার পক্ষে প্রচারেও নামিনি। তবে আমাকে কেনো অভিযুক্ত করা হলো? আমি জানিনা।’
‘দল যেহেতু করি,দলীয় সিদ্ধান্ত তো মেনে নিতে বাধ্য,দল যা করেছে,হয়ত ভালোর জন্যই করেছে, আমি কিছু বলার নাই। ১৯৯১ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করে,গত ৩০ বছর আওয়ামীলীগের রাজনীতি করার পুরষ্কারই পেলাম হয়ত এটা! কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। দল নিশ্চয়ই একদিন বুঝবে।’
একাধিকবারের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহিম বলেন,‘ শুনেছি আমাকে বহিষ্কারের খবরে কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করেছে,তারা কারা তাদের গুলশাখালিবাসি চিনে, হয়ত ভোট এবং ব্যালটেই তারা এসব কাজের জবাব পাবে।’
দল থেকে বহিষ্কারের পর জেলা পরিষদ সদস্য পদ আদৌ থাকবে কিনা,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-‘ এসব নিয়ে ভাবছি না। দলীয় পদই যেখানে নেই, সেখানে এসব নিয়ে ভেবে কি হবে। বাদ হলে বাদ,কিছু বলব না। দল যেটা করবে,সেটাই মেনে নিব। কখনই দলের বিরুদ্ধে যাইনি,যাবওনা।’
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামীলীগের এক জরুরী সভায় লংগদু উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার, সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম এবং পাঁচ ইউনিয়নে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা ছয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
