পরিবারের চার ভাই, দুই বোন’র মাধ্যে আমি সকলের ছোট। নাম আমার মো. সাইফুল উদ্দীন। বাবা পেশায় ইমাম, মা একজন সফল গৃহিনী। ছোট বেলা থেকে নানান প্রতিকূলতার মাঝে আমার বেড়ে উঠা। বহমান নদীর দিকে চলা যদিও প্রকৃতির নিয়ম, তবে আমি একটু ভিন্ন রকমের। ছোটবেলা থেকে একটু বেপরোয়া। সবাই যা চাই সেটা হয়তো আমি চাই না, আমি যা চাই সেটা হয়তো কেউ চাই না। এভাবেই শত বাঁধার মাঝে চলেছে আমার পথচলা……
২০১৩ সাল এসএসসি পাশ করে বড় বোনের জামাই (দুলাভাই) দোকানে বসতাম। দোকানের নানান হিসাব পত্র সহ হাতেখড়ি কাজ করতাম। রাঙামাটি কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একদিন কলেজের দেওয়ালে চোখে পরে একটি পোস্টার…….
“বলে রাখি, ছোট বেলা থেকে কিছুটা বইয়ের নেশা ছিলো আমার। হাই স্কুলে পড়া কালে নানান বই পড়তাম, বেশির ভাগ কাটুনের বই গুলো। ভালো লাগতো ছবি দেখে দেখে বই পড়ার। তবে সত্য কথা পাঠ্য বই একেবারে ভালো লাগে না আমার, এখনো সেই অভ্যাসটি রয়ে গেছে। পাঠ্য বইয়ের ভাজে রেখে কার্টুন কিংবা নানান ছোটদের সাতিহ্যে রচিত বই পড়তাম। সে থেকে কিছুটা লেখা-লেখি করতাম মনের ইচ্ছে মত। খাতার প্রায় শেষের ভাগে দেখ মিলবে আমার মনের মাঝে থাকা দুষ্ট নানান কথার ছড়াছড়ি। লেখালেখি করতাম ঠিক তবে কখনো ভাবিনি এ লেখা আমাকে নিয়ে যাবে কিছুটা দূরে। তখন আমার ভাবনায় ছিলো না আমি কখনো সাংবাদকর্মী হবো।”
……কলেজের সেই পোস্টারে লেখা ছিলো ‘আপনি কি সাংবাদিক হতে চান?’
এ কথাটা কেনো জানি আমার মনের মাঝে কিছুটা স্থান করে নিয়েছিলো। তৎকালিন সময়ে আমি বেশ কিছু সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের নানান কাজ করা ছিলো আমার অন্যতম একটি নেশা। তাই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে সামাজিক নানান কাজ করে বেড়াতাম। সে সাক্ষাতে পরিচয় হয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল ভাইয়ার সাথে।
পোস্টার দেখার পরে আমি ভাইয়াকে প্রথমে ফোন করি, পরে দেখা করে বিষয়টি জানায়। তখন তিনি জানান এটি তাদেরই একটি বিজ্ঞপ্তি। এটার সাথে যুক্ত আছে রাঙামাটির সকলের পরিচিত ফজলে এলাহী ভাই……
“ফজলে এলাহী ভাইকে যদিও আমি আগে থেকে চিনতাম। তবে গ্লোবাল ভিলেজ করে এই নামে। কারণ পৌরসভার হল রুমে অনেক বছর আগে তখন আমি হাই স্কুলের ছাত্র। সে সময়ে গ্লোবাল ভিলেজের একটি অনুষ্ঠানে স্কুল থেকে গিয়েছিলাম তখন তার নাম শুনতে পাই। পরে আরো একটিবার গণ জাগরণ মঞ্চের অনুষ্ঠান হলো ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে, তখনও স্কুল থেকে সবাইকে আনা হয়েছিলো সে অনুষ্ঠানে। সেখানে মাথার বাংলাদেশের পতাকা বাঁধান এক যুবককে দেখতে পাই, পরে জানতে পারি তিনি ফজলে এলাহী….. বহুবার তার সম্পর্কে জানা বা দূর থেকে দেখা হলেও কখনো সরাসরি কথা হয়েছে বলে মনে হয় না।”
পরে ইয়াছিন ভাইয়ার পরামর্শে একটি আবেদন পত্র লিখে জমা দেয় পাহাড়২৪ অফিসে। প্রথমে একটি সাধারণ সাক্ষাতকারের মাধ্যমে আমাদের নির্বাচিত করা হয়। বলা বাহুল্য এ যে ইয়াছিন ভাই সহযোগিতা করেছিলো আবেদনের করার ক্ষেত্রে।
পরে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে দিনব্যাপি একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমাদের প্রশিক্ষণ দেন ফজলে এলাহী ভাই, হেফাজত সবুজ ভাই, ইয়াছিন রানা সোহেল ভাই, শংকর দা। প্রশিক্ষণার্থী ছিলাম প্রায় আমরা ২০ থেকে ৩০ জনের মত। সাংবাদিকতায় প্রথম প্রশিক্ষণ ছিলো এটা আমার।
তার পরবর্তী সময়ে ২২ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় পাহাড়২৪ ডটকম নামে জনপ্রিয় অনলাইন সাইট। সেই থেকে শুরু হলো আমার সংবাদকর্মী হিসাবে পথচলার শুভ সূচনা, বলা যেতে পারে সংবাদকর্মী পরিচয়ে জন্ম আমার এই ২২ অক্টোবর………….
পরবর্তী সময়ে ফজলে এলাহী ভাইয়ার সহযোগিতায় ‘সাংবাদিকতা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ’ও গ্রহণ করি আমি। গত কয়েক বছরের নানান সংবাদ করার ফলে কিছুটা হলেও মানুষের হৃদয়ের মাঝে স্থান করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থানে নানান সমস্যর মুখামুখি সহ হামলার শিকার হলেও চলছে আমার এই পেশার কাজ।
সাংবাদিকতা শুরুর সময়ে যদিও সাইফুল উদ্দীন নামে সংবাদ প্রকাশ করা হতো তবে পরে এলাহী ভাই নিজে নাম পরিবর্তন করে সাইফুল বিন হাসান নামে সংবাদ প্রচারের জন্য নাম দেন। সে থেকে আমার পরিচয়ে নেয় একটি ভিন্ন মোড়, সাইফুল উদ্দীন থেকে সাইফুল বিন হাসান। এ নামে এখন আমাকে চেনে অনেকেই।
এ পেশায় কাজ করতে গিয়ে সহযোগিতা পেয়েছি নিজ হাউজের সকল সদস্যর। বয়সে সকলের ছোট বলে একটু বেশি ভালোবাসার শিকার আমি প্রতিবারই হই। সকলের সহযোগিতা আর ভালোবাসা আমাকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিয়েছে সাহস আর অনুপ্রেরণা।
নতুন পরিচয় আর জীবনের সাফল্যের দোড় গোড়াই পৌঁছে দিতে আমার একমাত্র সিঁড়ি এ পাহাড়২৪ডটকম। আমাকে কঠিন এই জীবন সংসারে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করছে তা পাহাড়২৪ পরিবার। সাংবাদিকতার প্রথম প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা অনেকের মাঝে এখনো আমি আর জিয়া ভাই কাজ করে যাচ্ছি প্রিয় স্থান, ভালোবাসার স্থান আমাদের পাহাড়২৪ডট কমে…………

৫ Comments
saiful vai maine kmn pan?
মাইনে টা বড় কিছুনা,এটা একটা সম্মানী পেশা, সাহসী না হলে এই পেশায় যাওয়া যায়না ভাইয়া।
সম্মানী থেকে অনেক সময় সম্মানটাই বড় হয় ভাই….
এমন যদি হত….
খুব ভাল লাগলো শুভ কামনা রইলো.. শুভ হোক পাহাড় ২৪.কম এর পথচলা।