আরমান খান, লংগদু ॥
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। তাদের মধ্যে লংগদু থেকেই মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা উত্তোলন করেন ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা। বাকিরা সবাই যুদ্ধকালীন ঠিকানায় ভাতা উত্তোলন করেন। এদের মধ্যে দুজন মুক্তিযোদ্ধা এখনো সম্মানী ভাতার দেখা পাননি। তাদের একজন ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভাতার জন্য এখনো লড়াই করছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী (৭০)। অতি সহজ সরল একজন বয়স্ক মানুষ। সারা জীবন দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকার লড়াই করেছেন। সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেন নাই। কাউকে কোনো সরকারী চাকরীর ব্যব¯’া করতে পারেন নাই। একমাত্র ছেলেও মারা গেছেন সম্প্রতি। সহায় সম্বল বলতে কিছু জমিজমা ছিল। তাও বিক্রি করা প্রায় শেষ। এখন আছে শুধু নিজের বসতভিটা। আয় রোজাগার না থাকায় মানুষের সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে চলেন এখন। পরিবারে উপার্জন করার কেউ নাই। এমন অসহায় দরিদ্র একজন মুক্তিযোদ্ধার এখন একমাত্র চাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও কোন অদৃশ্য কারণে ভাতা মিলছে না তা বলতে পারেন না বৃদ্ধ এই মুক্তিযোদ্ধা। এখন একটাই চাওয়া মৃত্যুর আগে যেন সম্মানী ভাতাটা পান তিনি।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন ‘যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর সরকারের সময়ে অবহেলায় থাকতে পারেন না। সম্মানী ভাতা ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হবে। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ঘর নির্মানেরও ঘোষনা দিয়েছেন তিনি।’
মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল ইসলাম ২০০৮ সালে মারা যান। তিনিও কখনো ভাতা পাননি। এমনকি তার সন্তানেরাও সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পায়নি কখনো। এক ছেলে থানার বাবুর্চি পদে চাকরি করে। বাকী দুজন কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। উত্তারাধিকার সূত্রে তার ছেলে সোহরাব হোসেন মুক্তিযোদ্ধা পিতার সম্মানী ভাতার জন্য গত পাঁচবছর ধরে চেষ্টা করছেন। এ পর্যন্ত লাখ খানেক টাকা খরচও করেছেন। ভাতা কবে হবে এ প্রশ্ন তারও। সোহরাব বলেন, আমার বাবা কৃষি কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। আমাদের লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। কোনো চাকরী করার মত যোগ্যতাও আমাদের নেই। বাবার মুক্তিযোদ্ধার ভাতাটা আমাদের প্রাপ্য।এটা পেলেই আমরা খুশি।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহ নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, ভাতা না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য। এছাড়াও ভাতা বঞ্চিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল ইসলাম। তিনি ২০০৮ সালে মারা গেছেন। দুইজন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা প্রাপ্তির সকল কাজ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সম্পন্ন ফাইল এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে আছে। আশা করছি শিঘ্রই তারা ভাতা পেয়ে যাবেন।
