রাঙামাটিতে অপুষ্টির শিকার অর্ধেকের বেশি শিশু। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে ৪০.৬%, খাগড়াছড়িতে ৫২.৯% এবং রাঙামাটিতে ৫১.৪%। দারিদ্রত্য আর সচেতনতার অভাবেই পুষ্টিহীনতার কারণ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
এসময় জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন ধারার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগলিক পটভূমি এবং খাদ্যাভাসের কারণেই শিশুরা পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দি জানান, মূলত: দু’টি কারণে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রথমত অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। যার কারণে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়াতে পারেননা। দ্বিতীয়ত সচেতনতার অভাব। যার কারণে টাকা থাকলেও পুষ্টিকর খাবারগুলো কিনে খাওয়াতে পারেনা। তিনি জানান, প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহের কারনেও শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা বিনোদ শেখর চাকমা, দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক আলহাজ¦ এ কে এম মকছুদ আহমেদ ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার আল-হক।
পুষ্টিহীনতা রোধে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ইউনাইটেড পারপাস-এর অর্থায়ানে পার্বত্য চট্টগ্রামে লিডারশীপ টু এনসিউর এডুকোয়েট নিউট্রিশন(লিন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৮টি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নের ৩,৫৩৩টি গ্রামের মোট মোট ৯৭৬,৬৪১ জন সেবাবঞ্চিত গ্রামাঞ্চলের মানুষ সেবা পাবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দি বলেন, শুধু কাগজে কলমে নয়। মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত অর্থেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সেবা পাচ্ছে কিনা তা দেখা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অবশ্যই সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভার পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
