সৈকত বাবু ॥
পৌরসভার অতিরিক্ত কর নির্ধারণ নিয়ে নাকাল রাঙামাটি পৌরসভাবাসী। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর কর নির্ধারণ করা হয়। এবছরও রাঙামাটি পৌরসভা কর নির্ধারণের কাজ করছে পৌর এলাকায়। তবে অভিযোগ উঠেছে বর্তমান আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না করে অতিরিক্ত কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত করের পরিমাণ কমাতে পৌরসভায় ছুটছেন পৌরবাসী।
পৌরবাসী জানায়, ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে অনেকে ঘরবাড়ি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারে নাই। অন্যদিকে করোনা মহামারীতে অর্থনৈকিতভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দুর্ভোগে থাকলেও পৌরসভা নিজের মত করেই পৌরকর নির্ধারণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা না করে পৌরকর নির্ধারণ করায় হতাশা প্রকাশ করছে স্থানীয়রা। একই সাথে পৌরকর সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবিও তাদের।
পৌর এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে যে কর ২ হাজার টাকা দিয়েছি তা এবার ধরা হচ্ছে ৭/৮ হাজার টাকা। নতুন ভবন তৈরি করলেও পৌরকর ধরা হচ্ছে অনেক বেশি। এমন পৌরকর নির্ধারণে বেকায়দায় পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষেরা। একইসাথে যাদের একমাত্র অবলম্বন তাদের ঘরবাড়ি ও দোকান ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল তারাই এই বাড়তি করের চাপে হিমশিম খাচ্ছে।
অবশ্য পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি নিয়ম মেনেই কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে একই সাথে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্ধারিত পৌরকর থেকে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, কর যা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা না করেই কর নির্ধারন করা হচ্ছে। পাহাড় ধস ও করোনার কারণে এমনই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত তার ওপর এমন কর প্রদান খুবই কষ্টকর।
আছে ভিন্ন মতও। চম্পক নগরের বাসিন্দা জয় প্রকাশ চাকমা বলেন, আমার ভবনের পৌরকর অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল পরে মেয়রের কাছে গেলে তিনি অনেক কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে কর পুনরায় নির্ধারণ করে দেন।
পৌরসভার কর নির্ধারক ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর কর নির্ধারণ করে থাকি। এবারও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হচ্ছে পরবর্তিতে কর দাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে কর নিরুপন কমিটি তা বিবেচনা করেন।
পৌরসভার কর নিরুপন ও আদায় কমিটির আহবায়ক প্যানেল মেয়র-২ কালায়ন চাকমা বলেন, যারা মাঠ পর্যায়ে কর নির্ধারণে দায়িত্বে আছেন তাদের সাথে আমরা একাধিবার বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়েছি ভূমি ধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও করোনা পরিস্থিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের দিকটি পার্বত্য অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে যাতে কর নির্ধারণ করা হয়। তারপরও যদি কেউ মনে করে কর বেশি হচ্ছে বা তার সামর্থ্যের বাইরে তাহলে তা আবেদনের মাধ্যমে রিভিউ করার সুযোগ আছে। আমরা চাই পৌর নাগরিকরা যাতে কোনভাবেই ভোগান্তি বা কষ্টে না পড়ে এই পৌরকরের কারণে।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, এটি সত্য যে পাহাড়ধস, বাড়ি ঘরের ক্ষতিগ্রস্ত ও করোনার কারণে রাঙামাটির অনেকে আর্থিক সমস্যায় আছেন। পৌরসভা নিয়ম অনুয়ায়ী কর নির্ধারণ করে থাকে অতিরিক্ত কর আদায় বা নির্ধারণের কোন সুযোগ নাই। আমি যদি পারতাম তাহলে পৌর নাগরিকদের সকলের পৌরকর মুক্ত করে দিতাম কিন্তু পৌর নাগরিকদের সেবা ও উন্নয়নের জন্য পৌরকর আদায় অপরিহার্য। পৌরসভার সকল স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন, শহররে আবর্জনা পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি রক্ষনাবেক্ষনণও জ্বালানি, সড়ক বাতির বৈদ্যুতিক বিল ও সড়কসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য পৌর করের ওপর পৌরসভা নির্ভরশীল। পৌরসভার কর বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্ধারণ করা পৌরকর নিয়ে যারাই আমার কাছে কর কমানোর জন্য আবেদন করেন এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া যাদের একমাত্র আয়ের উৎস তাদের মানবিক দিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে আমি তাদের পৌর কর কমিয়ে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি এবং কমিয়ে দেই।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গেজেটের মাধ্যমে পৌরকর পুনঃনির্ধারণে কত শতাংশ বৃদ্ধি করা যাবে তা প্রকাশ করে।
