রাঙামাটি শহরের কুখ্যাত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত আসামবস্তি এলাকার আফজাল মিয়া (৫২) অবশেষে যৌথবাহিনীর কাছে ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফজালের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে শহরতলির আসামবস্তি সংলগ্ন খেপ্যপাড়ায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী। এসময় পালানোর চেষ্টা করে পাশের কাপ্তাই হ্রদে ঝাঁপ দেয় আফজাল। ধস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ে তাকে আটক করে যৌথবাহিনী। এইসময় তার কাছ থেকে ১ টি পিস্তল,কিছু নগদ টানা ও ৩ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুখ্যাত চাঁদাবাজ আফজাল দীর্ঘদিন ধরে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির চাঁদা কালেক্টর হিসেবে কাজ করে আসছে। সে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভবাজার,তবলছড়ি এবং আসামবস্তি বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় জনসংহতির প্রতিনিধি হিসেবে সকল কাঠ-বাঁশ-মাছ ব্যবসা,দোকান-নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন যানবাহন থেকে টাকা সংগ্রহ করতো। এয়াড়াও জনসংহতির নির্ধারিত দৈনিক,মাসিক,ষাম্মাসিক ও বার্ষিক চাঁদাও সংগ্রহ করতো সে। আফজাল মূলত: জনসংহতি সমিতির হয়ে রাঙামাটির প্রধান চাঁদাসংগ্রহকারি জ্ঞানশংকর চাকমার প্রধান সহযোগি হিসেবে কাজ করে আসছিলো। আফজালের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী খোদেজা ও স্থানীয় ডেচকি মিয়া চাঁদা সংগ্রহের কাজটি করতো।
যৌথবাহিনী জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এটি একটি সফল অভিযান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃংখলা বজায় রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন,আফজাল একজন কুখ্যাত চাঁদাবাজ। একটি আঞ্চলিক দলের হয়ে সে দীর্ঘদিন চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলো। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এই বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক নীলোৎপল খীসা জানিয়েছেন, জনসংহতি সমিতি চাঁদাবাজির রাজনীতি করেনা এবং আমাদের কালেক্টর নামে কোন পদও নাই। এই নামের কাউকে আমরা চিনিও না।’
প্রসঙ্গত,রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার বাসিন্দা আফজাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থিত রাঙামাটি-কাপ্তাই সেতুতে বসে পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির হয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলো। পুরো বিষয়টি ওপেন সিক্রেট ও লোকমুখে প্রচলিত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিলো আফজাল। একজন বাঙালী হয়ে একটি পাহাড়ী দলের সশস্ত্র শাখার সাথে তার ঘনিষ্টতা ছিলো লোকমুখে আলোচিত বিষয়। অতপর সেই আফজাল গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে স্থানীয়রা।
