‘যুক্তির আলোয় উঠুক জেগে, মুক্ত পাখিরা’- এই স্লোগানে রাঙামাটি শহরে বসেছিল যেনো বিতার্কিকদের মিলনমেলা। ১৭ই ডিসেম্বর রাঙামাটি মুক্ত দিবসকে ঘিরে আয়োজিত এই উৎসবে রাঙামাটি শহরের বিশ^বিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল পর্যায়ের ৭০ জন বিতার্কিক অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে যেসব ক্যাটাগরির বিতর্ক আয়োজিত হয়ে থাকে তার সবগুলোরই প্রদর্শন করা হয় এইদিন। বিতর্কে মুগ্ধ ছিলো সারাবেলা।
রাঙামাটি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন আয়োজিত প্রদর্শনী বিতর্কের দিনব্যাপি আয়োজনে শুরুতে বিতর্কিকদের নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক ফজলে এলাহী ও জসীম উদ্দীন। এর পরপরই শুরু হয় সনাতনী বিতর্ক। এ বিতর্কে অংশ নেয় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয় পক্ষদল। সনাতনী বিতর্কের পর শুরু হয় সংসদীয় বিতর্ক। এই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় সরকারী দল।
সংসদীয় বিতর্কের পর শুরু হয় রম্য বিতর্ক । এই বিতর্কের বিষয় ছিল ‘আমার পেশাই সেরা পেশা’। এই পর্বটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অংশ নেয় বিতার্কিকরা। বিতর্কে সেরা পেশা নির্বাচিত হয় ভিক্ষুক। ভিক্ষুক চরিত্রে বিতর্ক করেছেন আইরিন আক্তার বৃষ্টি। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বারোয়ারি বিতর্ক,যাতে অংশ নেন স্কুল পর্যায়ের বিতার্কিকরা।
মধ্যাহ্ন ভোজের পর শুরু হয় আঞ্চলিক বিতর্ক ও জুটি বিতর্ক। আঞ্চলিক বিতর্কের ‘আমার জেলাই শ্রেষ্ঠ জেলা’ বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পুষা চাকমা আর ‘আমাদের প্রেমই শতাব্দীর সেরা প্রেম’ এই বিষয়ের জুটি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয় দেবদাস-পার্বতী চরিত্রে বিতর্ক করা স্বাধীন ত্রিপুরা ও এষা চাকমা।
দিনব্যাপি আয়োজনের সবশেষে শুরু হয় প্ল্যানচ্যাট বিতর্ক। আলো আঁধারির মঞ্চে ইতিহাসের যুগপৎ কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আত্মা হয়ে নেমে আসেন- নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা, এডলপ হিটলার, ওসামা বিন লাদেন, চেঙ্গিস খান, বেগম রোকেয়া ও স¤্রাট শাহাজাহান। এই বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হন নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চরিত্রে বিতর্ক করা তৈয়ব রাফি।
ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের একমাত্র অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারি বীরযোদ্ধা লে.কর্ণেল (অব) মনীষ দেওয়ান। তিনি বিতার্কিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বিতার্কিকরা যুক্তিবাদি সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে স্বাধীনতার স্বপ্ন সাধকে পূর্ণতা দিয়ে দেশপ্রেমি জনগোষ্ঠি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।’ তিনি বিজয়ী বিতার্কিকদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।
দিনব্যাপি বিতর্কে মডারেটর ও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক বিতার্কিক ফিরোজ আল মাহমুদ সোহেল, বিপ্লব তালুকদার ও হেফাজত সবুজ,জসীমউদ্দীন। পুরো আয়োজনটির সার্বিক আয়োজনে নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক তানিয়া এ্যানি,ইশরাত জাহান,তুষার ধরসহ সংগঠনের সদস্যরা।
