আট বছর আগে সরকার আইন করেছে। কিন্তু, দীর্ঘদিনেও এই আইনের তেমন কোনও প্রয়োগ নেই। যার কারণে দিনকে দিন পণ্যে ক্ষতিকর কৃত্তিম মোড়কীকরণ বেড়েই চলেছে। মনিটরিং এর বাইরে থাকায় ব্যবসায়ীদেরও এই বিষয়ে তেমন বোধগম্য নেই বললেই চলে!
বৃহস্পতিবার পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিরিখে রাঙামাটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে শহরের কলেজ গেইট এলাকায় চার মুদি দোকানিকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় অন্যান্য দোকানগুলোতেও পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহারে জোর প্রদান ও সতর্ক করা হয়েছে।
সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রশিদ ষ্টোরকে ১ হাজার, বাবুল ষ্টোরকে ১ হাজার, ইলিয়াস ষ্টোরকে ৫ শ’ ও আমির ষ্টোরকে ১ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পেশকার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর ১৪ ধারা মোতাবেক রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে চারটি দোকানে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে অন্যান্য দোকানিকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
উল্লেখ্য, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর ১৪ ধারায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করিয়া কৃত্রিম মোড়ক দ্বারা কোনো পণ্য বা পণ্য সামগ্রী মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করিলে বা করিবার অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।’