রাঙামাটি পার্বত্য জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, বর্তমানে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেরকম স্বাভাবিক রয়েছে এ পরিস্থিতি যেন আগামী সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তীতেও বিদ্যমান থাকে সেবিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান। অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে এ জেলায় না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার দুপাশে যত্রতত্র গাড়ি রেখে মালামাল উঠানামার কারণে যানজটের পাশাপাশি জনগণের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান চেয়ারম্যান।
সভায় রাঙামাটি পুলিশ বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় এ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকাংশে ভালো। তিনি বলেন, এ জেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও মাদক বিক্রী ও সেবনের কোন তথ্য থাকলে তা পুলিশ প্রসাশনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
জেলা খাদ্য বিভাগের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাছান জানান, বর্তমানে জেলার খাদ্যভান্ডারে ৫৩৫৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোশাররফ হোসেন মিরাজ জানান, চলতি মাসের ১৪অক্টোবর জেলার শুকুরছড়ি সাবস্টেশন কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। এতে করে জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হচ্ছে।
রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এনামুল হক জানান, কলেজের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া কলেজের প্রভাষকদের আবাসন সমস্যার বিষয়টিও সভায় উপস্থাপন করেন তিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের আওতায় রাঙামাটিতে ১০টি মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি উপজেলায় মসজিদ নির্মাণের জায়গার সয়েল টেস্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিটি মসজিদে সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ রোধে প্রচার প্রচারণা করা হচ্ছে।
সভায় উত্তর, দক্ষিণ বন বিভাগ, ঝুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ জানান, বর্তমানে স্থানীয় গাছের চারা কলম করা হচ্ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে চারাগুলো প্রদান করা হবে।
এছাড়া সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।
