‘ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই একটা পুনর্বাসন প্রয়োজন,এই পুনর্বাসন করার জন্য তাড়াহুড়ো না করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই জায়গাগুলো জরিপ ও পরিদর্শন করে একটি টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় পর্যায় একটি কমিটি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোন পাহাড় ধসের ঘটনায় কোন মৃত দেহ আমাদের দেখতে না হয়। আগামী সপ্তাহে জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটির কাজ হলো প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরাপন করা। এরপর আমরা পুনবার্সন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে’- এমনটাই জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনার একমাসে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।
বিকেলে ৫ টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশসাক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে পুনর্বাসন করা হবে না, ততদিন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র খোলা থাকবে। এছাড়াও যদি সরকারি সহায়তা অপ্রতুল হয়েও যায়,তবে মানুষের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র চালানো হবে। যদি আশ্রয়কেন্দ্রে বিশ জন মানুষও থাকে আমরা তাদের নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র চালিয়ে যাবো, দরকার হলে ছয় মাস চলবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীভূত করতে চাই। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সরকারি ভবন ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে হওয়ার কারনে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারনে আমরাদেরও তাদের সেবা প্রদানে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা যদি ষ্টেডিয়াম এলাকাটিকে কেন্দ্র করে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদেরও সুবিধাগুলো দেয়া সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা, ৬০০ মে. টন খাদ্য শস্য, ১০০ তাবু, ৩ হাজার পিচ কম্বল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে। ৬০০ বান্ডেল টিন এর সাথে ৩ হাজার করে টাকা দেয়া হবে।
সাংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশসক (সার্বিক) মোঃ সাহেদ চৌধূরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হকসহ বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীরা ।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ও ১৩ জুন প্রবল বর্ষনের কারনে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানী ও দুই শাতাধিক লোক আহত হয়। জেলার ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন হাজারের বেশি লোক অবস্থান নেয় এবং প্রায় কয়েকশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১ Comment
তা চাড়া তারা যাবেই বা কোথায়