রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় তিনটি পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ী লোকজনদের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ঘোষিত প্রতিশ্র“ত পূর্ণবাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
বুধবার রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান ক্ষতিগ্রস্থ ২১৩টি পরিবার লোকজনদের মাঝে সরকারী ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এসময় জেলা প্রশাসক প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে খাদ্যশস্য, ২ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৬ হাজার টাকা ও ২টি করে কম্বল বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণ কালে জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে যারা এখনো এলাকায় ফিরে আসেনি তারা যেনো ফিরে আসেন। তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২রা জুন যারা এই ধরনের সহিংস ঘটনার মাধ্যমে এখানকার উপজাতীয় এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্যমূলক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এনে শাস্তি প্রদানে সরকারের উচ্চ পর্যায় পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সাথে নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
তিনি জানান, এই সহিংস ঘটনার পরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চ পরযায়ের সরকারী কর্মকর্তাগন লংগদুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবারকে সরকারী সহায়তায় যথাযথ পুণর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্ঠি করতে না পারে সে বিষয়ে তিনি পাহাড়ী ও বাঙ্গালী সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান।
লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য জানে আলম, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম, ৭নং লংগদু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (অতিঃ দাঃ)সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারীগণ এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ রা জুন স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে লংগদু উপজেলার তিনটিলা, মানিকজোরছড়া, বাইট্টাপাড়া নামের তিনটি পাহাড়ী পল্লীতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ বাঙালীরা। এতে দুই শতাধিক বসতবাড়ী ও দোকান পাট ভস্মীভূত হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে এবং তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সহিংস ঘটনার পর স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং, সাবেক পর্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও লংগদু উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারন সম্পাদক মনিশংকর চাকমা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ঘোষিত বরাদ্ধ প্রতি পরিবারকে পাঁচ লক্ষ করে টাকা বরাদ্ধ করা হবে এবং তার বিশেষ বরাদ্ধ থেকে রেশনিং ব্যবস্থা করবেন মর্মে প্রতিশ্র“তি দেওয়ার কারণে ত্রান মন্ত্রনালয়ের ত্রাণগুলি গ্রহণ করেছি আমরা। মানিকজোরছড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা এখনো ফিরে আসেনি,তারা এখনো আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে রয়ে গেছে । যদি সরকার প্রতিশ্র“তি রক্ষা না করে তাহলে পাহাড়ীরা ত্রান নাও নিতে পারেন।

১ Comment
এই সব ফালতু কথা বারতা,,,,,,,,,,কি বাল পুনর্বাসন হবে জানা আছে,,,,,