ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার দিন শেষে গভীর রাতের মধ্যেই রাঙামাটি পৌরসভার ৬ ওর্য়াডের সুখীনীলগঞ্জ হ্যাচারীঘাট এলাকায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবনের আশপাশের জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত স্থানীয় দখলবাজরা। সোমবার রাতে অনেকগুলো বাঁশের খুটি গেড়ে নিজেদের জন্য জায়গা নির্ধারণও করে নিয়েছে তারা !
এলাকাবাসী জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে স্থানীয় মোল্লাপাড়া ও হ্যাচারি পাড়ার লোকজন মিলে এ জায়গা দখল করে। এ নিয়ে রাতে দুই পাড়ার দখলবাজদের মধ্যেও মারামারি ঘটনা ঘটে। আর দখলের পিছনে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মোট ৬৫টি প্লট পাওয়া গেছে। যার ভাগে যেটা পড়েছে তারটা সে দখলে রাখবে।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এই জায়গাটি মূলত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের। পরিষদ চেয়ারম্যানের বাংলোর সীমানা প্রাচীর নিমার্ণের পর দেয়াল ঘেঁষে মোল্লাপাড়া ও পুলিশ লাইনে যাওয়ার একটি রাস্তা রাখা হয়। বাংলোর সীমানা প্রাচীরের চারদিকে বাঁশের খুঁটি গেড়ে আলাদা-আলাদা করে ভূমি দখল করা হয়। একপাশে একটি ঢেউটিনের ছাউনী দিয়ে ঘর তোলার কাজ করা হচ্ছে।
এ কাঁচা রাস্তাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাংলোর সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে সুখীনীলগঞ্জ পুলিশ লাইন পর্যন্ত গেছে। এ রাস্তার জন্য ৪/৫ ফুট জায়গা রেখে কাপ্তাই লেক তীরবর্তী পুরো রাস্তাতে খুঁটি গাড়ানো হয়েছে।
রাতে দখলের পর সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। বেদখলের খবর পেয়ে পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় সদর থানার পুলিশের পরিদর্শক সত্যজিৎ বড়–য়া ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল ছাড়তে পরিষদের চেয়ারম্যান বলে আসেন। কিন্ত এরপরও দখল ছাড়েনি দখলবাজরা।
৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা জানান, ‘এটি মূলত জেলা পরিষদের জায়গা। স্থানীয় লোকজন মিলে সোমবার রাতে জায়গাটি দখল করেছে। দখলের পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে আসেন। ’
তিনি আরও জানান, ‘পরিষদের চেয়ারম্যান আগামীকাল এই জায়গায় পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দু’টি সাইনবোর্ড টাঙাতে বলেছেন। এমনকি কেউ যদি এই রাস্তা দখল করে তখন তাঁর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন চেয়ারম্যান সাহেব।’
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, ‘অবৈধভাবে জায়গা দখলের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল দেখতে গিয়েছি। দখলদারদের এসব খুঁটি ও ছাউনী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। না নিলে অন্যথায় আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।’
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট বিকালে রাঙামাটি শহরের ফরেস্ট রোডের পাশের অংশে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ১৫ থেকে ১৬টি টং দোকান গড়ে তোলা হয়। এরআগে একই জায়গায় পরপর দুইবার উচ্ছেদ অভিযানও চালায় জেলা প্রশাসন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শহরের মধ্যেই সরকারি জায়গায় দোকানপাট গড়ে নিবিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দখলবাজরা।
