রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় অপহৃত ১৮ জন গ্রামবাসীকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নানিয়ারচর এলাকাবাসী । সোমবার সকাল ১১ টায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ঘিলাছড়ি, বোধিপুর ও জুরছড়ি নামক এলাকায় ‘নানিয়ারচর এলাকাবাসী’ ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয় । এতে প্রায় কয়েকশত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
একই দাবিতে মঙ্গলবার নানিয়ারচর উপজেলার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘নব্য মুখোশ বাহিনী প্রতিরোধ কমিটি’ নামে ইউপিডিএফের একটি সহযোগি সংগঠন।
মানববন্ধনে বক্তারা ১৮ জন গ্রামবাসীর দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া গ্রামবাসীদের উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার নানিয়ারচর উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেন।
প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বধীন ইউপিডিএফ’র অভিযোগ, রাঙামাটির নানিয়ারচরে গত রোববার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ইঞ্জিনচালিত বোটযোগে কাঁচামালসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন কুতুকছড়ি বাজারে যাওয়ার সময় ‘অস্ত্রের মুখে’ ২৫ জন গ্রামবাসীকে সংস্কারবাদী (জেএসএস-এমএন লারমা) ও নব্য মুখোশদের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হাতিমারা মুখের টিলায় তাদেরকে আটকায়। পরে সেখান থেকে ৯ জনকে ছেড়ে দিয়ে বাকী ১৬ জনকে অপহরণ করে উপজেলার বড়াদাম নামক গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। এখনো তাদের কাউকে ছেড়ে দেয়া হয়নি। এরআগে গত বুধবার (৪ জুলাই) রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর বাজারে বাজার করতে আসলে আরো দুই গ্রামবাসীকে অপহরণ করা হয়। সবমিলে এখন পর্যন্ত ১৮ জন গ্রামবাসী অপহৃত আছেন।
পৃথক দুই অপহরণের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’কে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)।
অপহরণের বিষয়ে নানিয়ারচর থানার অফিচার্জ ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘অপহরণ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি । অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
